নিজ বাড়ি থেকে জনপ্রিয় অভিনেতার মরদেহ উদ্ধার
জনপ্রিয় অভিনেতা ও টেলিভিশন উপস্থাপক রে ম্যাকডোনাল্ড মারা গেছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে নিজ বাড়িতে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রে ম্যাকডোনাল্ডের স্ত্রী সিরিনিয়া জিন্তানাওয়ারাক সকালে সোফায় তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। স্থানীয় সময় আনুমানিক সকাল ৬টা ২০ মিনিটে তিনি স্বামীকে ঘুমিয়ে আছেন মনে করে জাগানোর চেষ্টা করেন। তাদের সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল রের।
পরে স্বামীর কোনো সাড়া না পেয়ে সিরিনিয়া পুলিশকে খবর দেন। কিছুক্ষণ পর রে ম্যাকডোনাল্ডকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তিনি এক সন্তানের বাবা ছিলেন।
স্থানীয় প্রাওয়েত থানার পুলিশ বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পেয়েছে, রাত ১২টা ১২ মিনিটের দিকে রে সোফায় পড়ে যান। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্বামীর মৃত্যুতে শোকাহত সিরিনিয়া বলেন, ‘সম্ভবত সে অবসর নেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল।’
রে ম্যাকডোনাল্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম পরিচিত অভিনেতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘টিন টক’ উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান।
১৯৯৭ সালে ‘ফান বার কারাওকে’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র অঙ্গনে তার সাফল্যের সূচনা হয়। ওই সিনেমার জন্য তিনি সুভান্নাহং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান। একই বছর ‘ড্যাং বিরেলি’স ইয়াং গ্যাংস্টার্স’ সিনেমাতেও অভিনয় করেন।
পরবর্তী সময়ে ১৯৯৮ সালের ‘ও-নেগেটিভ’ সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়েন তিনি। ২০০৯ সালে ‘ডিয়ার গ্যালিলিও’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সপ্তম কমচাডলুক অ্যাওয়ার্ডসে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ভ্রমণবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা এবং ইউটিউব ভিডিও তৈরির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন রে। ‘রোম অ্যালোন’সহ ব্যাংকককেন্দ্রিক বিভিন্ন ভ্রমণ অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা গেছে।
অর্ধেক থাই ও অর্ধেক ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত রে ম্যাকডোনাল্ড শৈশবের বড় একটি সময় ইউরোপে কাটিয়েছেন। পরে যুক্তরাজ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে এশিয়ায় ফিরে আসেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে থাইল্যান্ডের বিনোদন জগতে তিনি একটি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন।
