মূল লেখায় যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ইরান-আমিরাতের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এইমাত্রঅন্যান্য ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ইরান-আমিরাতের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে আলোচনা সভা এইমাত্রঅন্যান্য কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে আলোচনা সভা ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব থেকে অস্কারের দৌড়ে ছয় সিনেমা এইমাত্রঅন্যান্য ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব থেকে অস্কারের দৌড়ে ছয় সিনেমা আ.লীগকে ফেরাতে সরকারের একাংশ ষড়যন্ত্র করছে: পরওয়ার এইমাত্রঅন্যান্য আ.লীগকে ফেরাতে সরকারের একাংশ ষড়যন্ত্র করছে: পরওয়ার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সরকারের এইমাত্রঅন্যান্য ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সরকারের বুড়িচংয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ১১, তিনজনের কারাদণ্ড এইমাত্রঅন্যান্য বুড়িচংয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ১১, তিনজনের কারাদণ্ড সেই ৬৩ বিদেশির সহযোগী মহসিন কোকেন মামলায় গ্রেফতার এইমাত্রঅন্যান্য সেই ৬৩ বিদেশির সহযোগী মহসিন কোকেন মামলায় গ্রেফতার ফ্রান্সে বসেই দেশে ডাকাতচক্র চালাতেন ‘ফ্রান্স নাসির’ এইমাত্রঅন্যান্য ফ্রান্সে বসেই দেশে ডাকাতচক্র চালাতেন ‘ফ্রান্স নাসির’
অন্যান্য

আইন যেখানে ‘মাসোহারা’য় বন্দি: ভালুকায় মহাসড়ক দখলে নিয়েছে অবৈধ থ্রি-হুইলার

প্রতিবেদক:
আইন যেখানে ‘মাসোহারা’য় বন্দি: ভালুকায় মহাসড়ক দখলে নিয়েছে অবৈধ থ্রি-হুইলার

ময়মনসিংহের ভালুকায় ‘আইন আছে, আদালত আছে, আছে হাইওয়ে পুলিশও কিন্তু নেই শুধু আইনের প্রয়োগ’। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা অংশে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা স্রেফ উড়ে যাচ্ছে অটোরিকশার চাকার হাওয়ায়। সাধারণ মানুষের কাছে যা ‘মরণফাঁদ আর গলার কাঁটা, প্রভাবশালী চক্রের কাছে তা-ই আবার লাখ লাখ টাকার ‘মাসোহারা বাণিজ্য’ আর এই চক্রের সাথে খোদ ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ওসির জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে ভিন্ন অজুহাত অভিযুক্ত ওসির।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা কেবলই যেন কাগজে-কলমে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকায় হাইওয়ে পুলিশের নাকের ডগায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এতে প্রতিদিনই রক্ত ঝরছে পিচঢালা রাস্তায়, প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা; আর সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তীব্র যানজট।

স্থানীয়দের কাছে এগুলো ‘গলার কাঁটা’ হিসেবে পরিচিত হলেও, একটি প্রভাবশালী চক্রের কাছে তা-ই আবার লাখ লাখ টাকার ‘মাসোহারা’ উৎস। চালকদের দাবি, একটি চক্রকে প্রতি মাসে গাড়িপ্রতি ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয় তাদের। আর এই চক্রের সাথে খোদ ভরাডোবা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোর্শেদ আলম জড়িত থাকার অভিযোগ তুলছেন তারা। তবে ওই চক্রের ভয়ে মুখ খোলতে নারাজ ভুক্তভোগী চালকেরা।

আবুল কালাম নামে এক পথচারী জানান, ভালুকায় অংশে মহাসড়কে ধীরগতির অবৈধ যানের প্রবেশ এবং উল্টো পথে চলাচল দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। শুধু দুর্ঘটনাই নয়, এসব ধীরগতির যানের কারণে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড, ভরাডোবা, সিডস্টোর ও স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। অবৈধ যানবাহনের দীর্ঘসারি স্থবির করে দিচ্ছে দূরপাল্লার যোগাযোগ। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের যাতায়াতের সময় এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন চালক জানান, মহাসড়কে চলতে হলে তাদের নিয়মিত বড় অংকের চাঁদা দিতে হয়। চালকদের দাবি, ‘প্রতিমাসে প্রতিগাড়ি থেকে দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকা মাসোহারা দিতে হয়। মাসোহারা দিলেই মিলে অলিখিত হাইওয়ে পার্মিট বা নিবন্ধন। পুলিশ ধরলেও একটি প্রভাবশালী চক্র রয়েছে যাদের মাধ্যমে মাসোহারা করা হয়, তাদের নাম বলা মাত্রই ছেড়ে দেয়।’ তারা আরও অভিযোগ করেন যে, এই পুরো প্রক্রিয়ার বিষয়টি খোদ ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবগত রয়েছেন।

চালকরা বলেন, ‘এই বিষয়ে খোদ ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ওসি সবই জানে। ওসি যদি বলে মহাসড়কে অটোরিকশা চলবে না, তবে ভালুকায় কারো পক্ষেই অটোরিকশা চালানো সম্ভব হবে না। এখন হাইওয়ে পুলিশ চলতে বা চালাতে সুযোগ দেয়, সবাই যেভাবে চালায় আমরাও সেভাবে চালাচ্ছি।’

উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মহাসড়কে কেন এসব অবৈধ যান চলছে এমন প্রশ্নে স্থানীয়রা বলছেন, হাইওয়ে পুলিশের উদাসীনতা আর মাসোহারা বাণিজ্যের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে না এলে ভালুকা অংশে রক্তক্ষরণ থামানো সম্ভব নয়। মহাসড়ক নিরাপদ করতে অবিলম্বে এই অবৈধ ‘মাসোহারা বাণিজ্য’ বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা। মহাসড়কে থ্রি-হুইলারের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নিবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সাধারণ পথচারিরা।

তবে ‘মাসোহারা বাণিজ্য’ অভিযোগ অস্বীকার করে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মহাসড়কে যেকোনো ধরনের থ্রি-হুইলার বা ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে ভালুকা একটি বড় শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে লাখ লাখ শ্রমিকের যাতায়াত। মহাসড়কের পাশে কারখানার শ্রমিকরা এসব অটোরিকশায় চলাচল করে। আর পর্যাপ্ত বিকল্প গণপরিবহন না থাকার সুযোগে মহাসড়ক দখল করে নিয়েছে এসব থ্রি-হুইলার। তবে এইসব যানের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।