মূল লেখায় যান
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানের শপথ এইমাত্রঅন্যান্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানের শপথ মা-বাবা ভুল পথে চললে সন্তানের করণীয় এইমাত্রঅন্যান্য মা-বাবা ভুল পথে চললে সন্তানের করণীয় মালয়েশিয়ায় ‘ফ্লাইং ডক্টর’ সেবার হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, কি ঘটে ছিল? এইমাত্রঅন্যান্য মালয়েশিয়ায় ‘ফ্লাইং ডক্টর’ সেবার হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, কি ঘটে ছিল? সরকারী নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ এইমাত্রঅন্যান্য সরকারী নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ ইরানকে সাহায্য করায় ৩৬ প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এইমাত্রঅন্যান্য ইরানকে সাহায্য করায় ৩৬ প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিশুর বারবার পেটের সমস্যা, বমি? কোন ৩ পানীয় দিতে পারেন এইমাত্রঅন্যান্য শিশুর বারবার পেটের সমস্যা, বমি? কোন ৩ পানীয় দিতে পারেন তারেক রহমানের যোগদান নিয়ে যে তথ্য দিলো ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এইমাত্রঅন্যান্য তারেক রহমানের যোগদান নিয়ে যে তথ্য দিলো ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের ১২ উপজেলায় নতুন ইউএনও নিয়োগ দিল সরকার এইমাত্রঅন্যান্য দেশের ১২ উপজেলায় নতুন ইউএনও নিয়োগ দিল সরকার
অন্যান্য

এআই দিয়ে যা-ই করেন, রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি

প্রতিবেদক:
এআই দিয়ে যা-ই করেন, রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে নানা ধরনের কাজ করা গেলেও এর সহায়তায় বিচারকের রায় লেখা অনুচিত। রায় লিখতে বিচারকের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, আইনের প্রয়োগ ও বিবেকের ভূমিকা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এআইয়ের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অসীম উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, এর ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিটির ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই দিকই বিবেচনায় রাখতে হবে।

এআই ব্যবহারের ঝুঁকি তুলে ধরে যুক্তরাজ্যের একটি মামলার উদাহরণ দেন তিনি। প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবাদপত্রে তিনি পড়েছেন, ব্রিটেনে একটি মামলার রায়ে অন্য একটি মামলার রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছিল। বিচারক সেই রেফারেন্স গ্রহণ করে রায় দেন এবং পরবর্তী তিন-চারটি আদালতও ওই রায় অনুসরণ করে। পরে গবেষণায় দেখা যায়, যে মামলাটির রেফারেন্স দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে সেই মামলার কোনো অস্তিত্বই নেই। ততক্ষণে অবশ্য রায় হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এআইয়ের অন্যতম ঝুঁকি হলো—এর দেওয়া তথ্য যাচাই না করে ব্যবহার করা কঠিন এবং তা গুরুতর ভুলের কারণ হতে পারে।

চলতি বছরের ২৭ আগস্ট বিচারিক জীবনের ২৩ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, তাঁর দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতা থেকে তিনি একটি বিষয় শিখেছেন—এআই দিয়ে অনেক কাজ করা গেলেও রায় লেখা উচিত নয়।

রায় লেখার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত মামলার ‘ফ্যাক্ট’ বা ঘটনা কী, তা নির্ধারণ করতে হবে। এরপর ওই ঘটনার ওপর প্রযোজ্য আইন প্রয়োগ করতে হবে। কোন আইন, আইনের কোন ধারা বা উপধারা মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তা বিচারককে নির্ধারণ করতে হবে।

সবশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারকের বিবেক বা নৈতিক বোধ গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রথম হচ্ছে ফ্যাক্ট, তারপরে আইন। লাস্টলি, আপনি যখন সিদ্ধান্ত নেবেন, আপনি কিন্তু এই ফ্যাক্ট আর আইনের সঙ্গে যে জিনিসটি আমি ব্যবহার করি, বা এমন প্রত্যেক বিচারক ব্যবহার করেন, সেটা হচ্ছে আপনার বিবেক।’

এই বিবেক বা নৈতিক বোধ এআই দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর মতে, বিবেক মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি থেকে আসে। মানুষ যখন নিজের চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলবে, তখন সে অনেক ছোট হয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলী।