মূল লেখায় যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ইরান-আমিরাতের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এইমাত্রঅন্যান্য ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ইরান-আমিরাতের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে আলোচনা সভা এইমাত্রঅন্যান্য কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে আলোচনা সভা ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব থেকে অস্কারের দৌড়ে ছয় সিনেমা এইমাত্রঅন্যান্য ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব থেকে অস্কারের দৌড়ে ছয় সিনেমা আ.লীগকে ফেরাতে সরকারের একাংশ ষড়যন্ত্র করছে: পরওয়ার এইমাত্রঅন্যান্য আ.লীগকে ফেরাতে সরকারের একাংশ ষড়যন্ত্র করছে: পরওয়ার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সরকারের এইমাত্রঅন্যান্য ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সরকারের বুড়িচংয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ১১, তিনজনের কারাদণ্ড এইমাত্রঅন্যান্য বুড়িচংয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ১১, তিনজনের কারাদণ্ড সেই ৬৩ বিদেশির সহযোগী মহসিন কোকেন মামলায় গ্রেফতার এইমাত্রঅন্যান্য সেই ৬৩ বিদেশির সহযোগী মহসিন কোকেন মামলায় গ্রেফতার ফ্রান্সে বসেই দেশে ডাকাতচক্র চালাতেন ‘ফ্রান্স নাসির’ এইমাত্রঅন্যান্য ফ্রান্সে বসেই দেশে ডাকাতচক্র চালাতেন ‘ফ্রান্স নাসির’
অন্যান্য

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনেই ১৮ হাজার আবেদন

প্রতিবেদক:
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনেই ১৮ হাজার আবেদন

দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির পর আমানত ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে। ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় আমানতের অর্থ উত্তোলনের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই প্রায় ১৮ হাজার গ্রাহক অর্থ উত্তোলনের আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে চাওয়া হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

এর মধ্যে এককালীন পুরো আমানতের অর্থ উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছেন ২ হাজার ৩৬৭ জন গ্রাহক। তাদের আবেদনে মোট ২৪৪ কোটি টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের আবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অর্থের চাহিদা নিরূপণ করে ধাপে ধাপে আমানত ফেরতের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবরে ১ সেপ্টেম্বর থেকেই ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকদের উপস্থিতি দেখা যায়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য দিয়ে তারা নিজ নিজ হিসাব থেকে কত টাকা উত্তোলন করতে চান, সে বিষয়ে আবেদন জমা দেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবেদনগুলো যাচাই ও প্রক্রিয়াজাত করার পর ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেয়া শুরু হবে।

দীর্ঘদিন অর্থ উত্তোলনে নানা সীমাবদ্ধতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা গ্রাহকদের অনেকেই এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন করে আশাবাদ। একজন আমানতকারী জানান, আমি প্রায় ১২ বছর ধরে ব্যাংকটিতে আমানত রেখে আসছি। এখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত দেয়ার আশ্বাস দেয়ায় আমি সন্তুষ্ট। আমার প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও ভালোভাবে পরিচালিত হবে।

এদিকে, প্রথম দিন গ্রাহকদের অতিরিক্ত ভিড়ের আশঙ্কা থাকলেও বাস্তবে শাখাগুলোতে তেমন চাপ দেখা যায়নি। সকাল থেকেই ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। আবেদন গ্রহণ, তথ্য যাচাই এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার বিষয়গুলো তারা সরাসরি তদারকি করেন।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে সরকারের ঘোষণার পর গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে। এখন সেই আস্থা ধরে রাখার দায়িত্ব ব্যাংক কর্তৃপক্ষের। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে স্বাভাবিক লেনদেনের সুযোগ দেয়ার ঘোষণা দেয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। এখন ব্যাংকের ওপর যে দায়িত্ব এসেছে, তা যথাযথভাবে পালন করাই প্রধান লক্ষ্য।

আরেক কর্মকর্তা জানান, ১ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ উত্তোলনের আবেদন নেয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আমানত ফেরত দেয়ার বিষয়ে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী তাদের অর্থ ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা জানান, গ্রাহকরা এসে নির্দিষ্ট ফরমে তাদের হিসাব থেকে কত টাকা উত্তোলন করতে চান, তা উল্লেখ করে আবেদন জমা দিচ্ছেন। এসব আবেদন প্রক্রিয়াজাত করার পর ৭ সেপ্টেম্বর থেকে অর্থ পরিশোধ শুরু হবে। কোন গ্রাহক কবে অর্থ পাবেন, তা পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে জানিয়ে দেয়া হবে।

অন্যদিকে, গ্রাহকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় অর্থের চাহিদা নিরূপণ করবে ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কত পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে, সেই চাহিদার ভিত্তিতেই অর্থের জোগান দেয়ার পরিকল্পনা করা হবে। প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, গ্রাহকদের আবেদনের মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থের চাহিদা তৈরি হবে, তার ভিত্তিতেই জোগানের পরিকল্পনা করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেহেতু প্রয়োজনীয় সহায়তার নিশ্চয়তা দিয়েছে, তাই জনগণের স্বার্থ ও আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যাংকগুলোকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। গ্রাহকদের দেয়া প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে রক্ষা করা হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ব্যাংকটির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের মধ্যে যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা ছিল, আমানত ফেরতের এই প্রক্রিয়া তা অনেকটাই কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবেদন গ্রহণের পর নির্ধারিত সময় থেকে অর্থ ফেরত দেয়া শুরু হলে গ্রাহকদের আস্থাও আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।