প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে আসছেন পানিসম্পদমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় তাদের হাবাসপুরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, বাস্তবায়ন যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করতেই এই সফর। সফরকালে সরকারের প্রতিনিধিরা প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান, পদ্মা নদীর গতিপ্রকৃতি, বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ধারণা নেবেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন।
সফরকারী দলে রয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও পদ্মা ব্যারেজ-দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এ সময় রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ, রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন জানান, সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সফর উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত পদ্মা (গঙ্গা) ব্যারেজ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বর্ষাকালে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে তা নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ করা। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে পাংশার হাবাসপুর এলাকায় প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্প অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের আওতায় ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নৌ-লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া গড়াই, চন্দনা ও হিসনা নদীর অফটেক স্ট্রাকচার নির্মাণ, গড়াই-মধুমতি নদী ব্যবস্থার ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ড্রেজিং, হিসনা নদী ব্যবস্থার ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার ড্রেনেজ চ্যানেল পুনর্খনন এবং ১৮০ কিলোমিটার অ্যাফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় ১১৩ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
