প্রতিশোধের আগুনে পুড়ল ৩০ কোটিরও বেশি টাকার সম্পদ
ভারতের গুজরাটের সুরাটে ৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকা কাপড় পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা মনে হলেও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এটি ছিল প্রতিশোধমূলক অগ্নিসংযোগ। চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া এক হিসাবরক্ষক মাত্র ১৯২ টাকার পেট্রল ও দুটি দেশলাই কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। তাঁর দাবি, সাবেক মালিকের কাছে তাঁর ১২,৮০০ টাকা পাওনা ছিল।
গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে সুরাটের শ্যাম সঙ্গিনী টেক্সটাইল মার্কেটে ভয়াবহ আগুনে অন্তত ১৪টি দোকান পুড়ে যায়। এতে প্রায় ৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকার কাপড় ও অন্যান্য মালামাল নষ্ট হয়।
ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখতে পায়, মুখে কাপড় বাঁধা এক ব্যক্তি মার্কেটের ষষ্ঠ তলায় গিয়ে একটি দোকানের বাইরে রাখা কাপড়ের পার্সেলের ওপর পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন। প্রথমবার চেষ্টা ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয়বার আগুন ধরে যায়। এরপর দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি।
মঙ্গলবার গুজরাট পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় বিনোদ পণ্ডিত সাভলে নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, সাভলে ওই মার্কেটের ৬৩৯ নম্বর দোকানে প্রায় তিন মাস হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করেছিলেন। হিসাবের কাজ ঠিকমতো সামলাতে না পারায় গত জুনে তাঁকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি হারানোর পর সাবেক মালিকের কাছে নিজের ১২,৮০০ টাকা পাওনা দাবি করছিলেন সাভলে। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মালিককে ‘শিক্ষা দিতে’ মার্কেটে আগুন দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
ঘটনার রাতে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ ও বোতলে করে প্রায় ১৯২ টাকার পেট্রল নিয়ে মার্কেটে ঢোকেন সাভলে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মার্কেট ফাঁকা হয়ে গেলে তিনি সাবেক কর্মস্থলের সামনে যান। কাপড়ের পার্সেলের ওপর পেট্রল ঢেলে দেশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুন জ্বলে ওঠার পর তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে একবার পেছনে ফিরে আগুনের অবস্থা দেখতেও দেখা গেছে।
মার্কেটে বিপুল পরিমাণ কাপড় ও প্যাকিং সামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন দমকলকর্মীরা।
পুলিশ জানায়, বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তের চলাচলের পথ শনাক্ত করা হয়। পরে সুরাটের ডিন্ডোলি এলাকার বিলিপত্র রেসিডেন্সি থেকে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এবং এ ঘটনায় মামলা হয়েছে জানতে পেরে সাভলে মোবাইল ফোন বন্ধ করে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সুরাট ছাড়েন বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রথমে রাজস্থানের খাতু শ্যাম মন্দির এবং পরে অযোধ্যায় যান তিনি। সুরাটে ফিরে আসার পর ডিন্ডোলির ফ্লাওয়ার গার্ডেনের কাছ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) করণরাজ বাঘেলা বলেন, সাভলে কীভাবে খোলা পেট্রল সংগ্রহ করেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট পেট্রল পাম্প নিয়ম মেনে পেট্রল বিক্রি করেছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে পাম্পটির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, সাভলে একাই এই অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা করেছিলেন, নাকি তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন।
সূত্র: এনডিটিভি
