মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঢাকাসহ ১১ জেলায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির শঙ্কা এইমাত্রঅন্যান্য ঢাকাসহ ১১ জেলায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির শঙ্কা আবারও কমলো গ্যাস সরবরাহ, দুঃখ প্রকাশ পেট্রোবাংলার এইমাত্রঅন্যান্য আবারও কমলো গ্যাস সরবরাহ, দুঃখ প্রকাশ পেট্রোবাংলার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব এইমাত্রঅন্যান্য সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব হাসিনার মতো করলে তোমাদেরও জনগণ বিদায় করে দেবে: ফজলুর রহমান এইমাত্রঅন্যান্য হাসিনার মতো করলে তোমাদেরও জনগণ বিদায় করে দেবে: ফজলুর রহমান জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের ‘লিগ্যাল অফিসার’ হলেন জাইমা এইমাত্রঅন্যান্য জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের ‘লিগ্যাল অফিসার’ হলেন জাইমা অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ কর্মী ভিসায় নতুন অগ্রাধিকার, গুরুত্ব পাবে ৭ খাত এইমাত্রঅন্যান্য অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ কর্মী ভিসায় নতুন অগ্রাধিকার, গুরুত্ব পাবে ৭ খাত কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৭ জন গ্রেপ্তার এইমাত্রঅন্যান্য কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৭ জন গ্রেপ্তার দিনেদুপুরে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে মিরিঞ্জা রয়েল হিল রিসোর্টে হামলা, আহত ৯ এইমাত্রঅন্যান্য দিনেদুপুরে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে মিরিঞ্জা রয়েল হিল রিসোর্টে হামলা, আহত ৯
অন্যান্য

সরকারের চাপে নির্বাচন পেছানোর অভিযোগ নাকচ করল ইসি

প্রতিবেদক:
সরকারের চাপে নির্বাচন পেছানোর অভিযোগ নাকচ করল ইসি

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, সরকার চাপে মোটেই নির্বাচন পেছানো হয়নি। অবস্থার প্রেক্ষিতে আমাদের লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর যাতে লেখাপড়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সম্ভাব্য যে সময়ের কথা বলা হয়েছিল, সেটা সামনে এগিয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘নভেম্বর-ডিসেম্বরে যে পাবলিক পরীক্ষাগুলো রয়েছে, সেগুলোকে ডিস্টার্ব না করে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে, সুশৃঙ্খলভাবে পরীক্ষা দিতে পারে, সেজন্য ওই সময়টা বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন চিন্তাভাবনা করছে।’

তিনি বলেন, সাধারণত বার্ষিক পরীক্ষা নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই হয়ে থাকে। সেই বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন শিডিউল নির্ধারণ করবে।

জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনা

জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরু হতে পারে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমরা আশা রাখি, পরীক্ষাগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে গেলে বা জানুয়ারির দিকে ইনশাআল্লাহ নির্বাচন করতে পারব।’

তবে নির্দিষ্ট তারিখ এখনই বলা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে নির্দিষ্ট তারিখ বলা ঠিক হবে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সরকারের চাপে পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘মোটেই না, মোটেই না। বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে আমাদের লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর যাতে লেখাপড়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সম্ভাব্য যে সময়ের কথা বলা হয়েছিল, সেটা সামনে এগিয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে অনেক কথা বলবে। কিন্তু আপনাদের কাছে কি মনে হয় নির্বাচন কমিশন কারও চাপে এই পর্যন্ত কোনো কাজ করছে? নির্বাচন কমিশন বাস্তবতা-বিবর্জিত কোনো কাজ করে না। আইনের বাইরে যায় না, সংবিধানের বাইরে যায় না। সংবিধান, আইন এবং বাস্তবতা বিবেচনা করেই আমরা কাজ করি।’

নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন কেন নয়

আগে নভেম্বর ও ডিসেম্বরে স্থানীয় নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হলেও এখন কেন তা পরিবর্তন করা হচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন,এ বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচনের সময় নির্ধারণে অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হয়।

তিনি বলেন, ‘নভেম্বরে নির্বাচন হলে ১২ তারিখের পরপরই দেখা গেছে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়। এর মধ্যে গত ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষাও বন্যার কারণে কোনো কোনো এলাকায় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই পরীক্ষাগুলোর সমন্বয় এবং পরীক্ষা-পরবর্তী সিলেবাস কাভার করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চেষ্টা করছে।’

তিনি আরও বলেন, বন্যায় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ব্যাপকভাবে শুরু হলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতির মুখে পড়বে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া লাখ লাখ প্রার্থীর সন্তানরাও পরীক্ষার্থী, এ বিষয়টিও কমিশন বিবেচনায় নিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও পরীক্ষায় ব্যস্ত থাকে জানিয়ে এ

নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘পাবলিক পরীক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ সমস্ত পরীক্ষায় এনগেজড থাকে। তো সেই ক্ষেত্রে এই সময়টাতে নির্বাচন করা আসলেই কঠিন।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি আদান-প্রদান হয়েছে কি-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি, কেউ কাউকে অফিসিয়ালি বলে না যে নির্বাচনের তারিখ এত তারিখে করতে হবে বা এত তারিখ হলে সুবিধা হবে। এভাবে কোনো পত্র যোগাযোগ হওয়ার নজির নাই।’

তবে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের নির্বাচন-উপযোগিতা, মামলা-মোকদ্দমা, সীমানা নির্ধারণ ও মেয়াদ পূর্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য চায় বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘তথ্য আদান-প্রদান হয়। কোন ইউনিয়নগুলো নির্বাচন-উপযোগী, মামলা-মোকদ্দমা, সীমানা নির্ধারণ, মেয়াদ পূর্তি এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় তথ্য চায়। তারা সেই তথ্য দেয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই কর্মপরিকল্পনা তৈরি হয়।’

জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরু হলে ৬ জুনের মধ্যে ভোট শেষ করা সম্ভব কি না-এমন প্রশ্নে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এটি সম্ভাব্য একটি টাইমলাইন। জানুয়ারিতে শুরু হলে ৬ জুনের মধ্যে ভোট কমপ্লিট করা সম্ভব। এটা সবকিছুই সম্ভাব্য। একবারে স্পেসিফিক বা সুনির্দিষ্টভাবে ৬ জুনের মধ্যে শেষ করে ফেলব-এটা বলছি না।

জানুয়ারিতে ভোট হলে তফসিল কবে হতে পারে- জানতে চাইলে তিনি বলেন সম্ভাব্য নির্বাচনের তারিখ থেকে ৪০ থেকে ৪৫ দিন ব্যবধান রেখে তফসিলের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘জানুয়ারিতে আমরা আশা রাখছি যে নির্বাচন হবে এবং সম্ভাব্য তফসিল নির্বাচনের তারিখ থেকে মোটামুটি ৪০-৪৫ দিন ব্যবধান রেখে আমরা চিন্তা করছি। সেভাবেই আমাদের পরিকল্পনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘১ জানুয়ারি হলে ৪০-৪৫ দিন পিছিয়ে আসব, ৫ জানুয়ারি হলে সেভাবে হিসাব হবে, ২০ জানুয়ারি হলে সেভাবেই হিসাব হবে। যাতে কোনোভাবেই পরীক্ষার ক্ষতি না হয়।’

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে হতে পারে- এমন প্রশ্নে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘এক-দুই মাসের মধ্যে হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি জানান, রমজান, ঈদ, পূজা, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা তৈরি করছে কমিশন। ‘সবকিছুই এখন আমরা একবারে হলিস্টিক অ্যাপ্রোচে চিন্তাভাবনা করছি এবং সেভাবেই কাগজপত্র রেডি করছি’, বলেন তিনি।