দারাজ বাংলাদেশের এমডি বেন ই পলাতক
দেশের বহুল প্রচলিত ই-কমার্স প্লাটফর্ম দারাজ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বেন (কিয়ান) ই-এর বিরুদ্ধে রাজধানীর বাড্ডা থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (নারকোটিক্স) সহকারী পরিচালক (এডি) মোস্তাক আহমেদ।
এর আগে (১৬ আগস্ট ২০২৬) মাদক ব্যবসার অভিযোগে দারাজের এমডি সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করে নারকোটিক্স। এবং দারাজের পণ্য সরবরাহকারি আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করে সংস্থাটি।
মামলার বিষয়ে দারাজ বাংলাদেশের বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির হেড অব কমিউনিকেশনস মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম বাপ্পীর সাথে একাধিকবার ফোন ও ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধনী এনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাদক কেনা-বেচা ও সরবরাহের বিষয়টি আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সংশোধিত আইনের অধীনে এটিই প্রথম মামলা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশোধিত ৩৬(ক) ধারায় বলা হয়েছে, সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্টেন্সের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ, প্রস্তাব, প্রচার বা লেনদেনে জড়িত হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দারাজের ওয়েবসাইটে সিবিডি ওয়েল নামের একটি পণ্য দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য যাচাইয়ের জন্য নারকোটিক্সের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা বেশ কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেন। এক পর্যায়ে দারাজের ডেলিভারি কর্মীদের একজন কয়েকটি সিবিডি ওয়েল সরবরাহ করেন। পরে রাসায়নিক পরিক্ষার জন্য ল্যাবে নমুনা পাঠানো হয়। এতে ভয়ংকর তথ্য বেরিয়ে আসে। দেখা যায়-সিবিডি ওয়েল নামের ওই পণ্যে উচ্চ মাত্রায় গাঁজার তরল উপাদান বা টিএইচসি (ট্রেট্রা হাইড্রো কন্যাবিস) রয়েছে।
দারাজে বিক্রিত পণ্যে মাদক পাওয়ার পর পরই সংশ্লিষ্ট পণ্যের কারখানায় অভিযান চালানো হয়। এবং বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকর একটি ফ্ল্যাটে গেলে সেখানে মজুদকৃত বিপুল পরিমান সিবিটি ওয়েল এবং এ সংক্রান্ত নানা ধরনের উপকরণ পাওয়া যায়। এ সময় কারখানার মালিক এবং দারাজের পণ্য সরবরাহকারি আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
