মূল লেখায় যান
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জাতিসংঘ সফর: প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন এইমাত্রঅন্যান্য জাতিসংঘ সফর: প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন এমপি নজরুলের রিমান্ডে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যসব তথ্য এইমাত্রঅন্যান্য এমপি নজরুলের রিমান্ডে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যসব তথ্য যশোরে নিজ স্ত্রীকে বন্ধুর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার পর যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু এইমাত্রঅন্যান্য যশোরে নিজ স্ত্রীকে বন্ধুর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার পর যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু ঢাকার আশপাশে শরতের সেরা কাশফুলের ঠিকানা এইমাত্রঅন্যান্য ঢাকার আশপাশে শরতের সেরা কাশফুলের ঠিকানা সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার শীর্ষে শিপু এইমাত্রঅন্যান্য সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার শীর্ষে শিপু লন্ডনের বাঙ্গালি পাড়ায় এখন পরিচিত জনপ্রিয় মুখ শারমিন আহমেদ বিথী এইমাত্রঅন্যান্য লন্ডনের বাঙ্গালি পাড়ায় এখন পরিচিত জনপ্রিয় মুখ শারমিন আহমেদ বিথী এবার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বোমা সদৃশ বস্তু, ঘিরে রেখেছে এসআরবি এইমাত্রঅন্যান্য এবার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বোমা সদৃশ বস্তু, ঘিরে রেখেছে এসআরবি আকাশসীমার অনুমতি না মেলায় আটকে গেল রূপপুরের ইউরেনিয়াম এইমাত্রঅন্যান্য আকাশসীমার অনুমতি না মেলায় আটকে গেল রূপপুরের ইউরেনিয়াম
অন্যান্য

১৩ হাজার সাবেক শিক্ষার্থী, নেই নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই

প্রতিবেদক:
১৩ হাজার সাবেক শিক্ষার্থী, নেই নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই

জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরীফুল ইসলাম

প্রায় দুই দশকের পথচলায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে বের হয়েছেন প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থী। তাদের কেউ সরকারি চাকরিতে, কেউ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, গণমাধ্যম, শিক্ষা ও গবেষণায় কাজ করছেন। অনেকে আবার ব্যবসা ও দেশের বাইরেও বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন। এত সংখ্যক সাবেক শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের একত্র করার জন্য এখনো গড়ে ওঠেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলাদা সংগঠন বা অ্যালামনাই কার্যক্রম থাকলেও পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই। ফলে বিভিন্ন ব্যাচ ও বিভাগের সাবেকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা অনেকটাই বিচ্ছিন্নভাবে চলছে।

সংশ্লিষ্ট সাবেক শিক্ষার্থীরা বলছেন, একটি কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই থাকলে সাবেক শিক্ষার্থীদের সাথে বর্তমান শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ বাড়বে। সাবেকদের অভিজ্ঞতা বর্তমান শিক্ষার্থীদের কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে চাকরি, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, ইন্টার্নশিপ ও দক্ষতা উন্নয়নে তারা পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে পারবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগেও সাবেকদের অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. হায়দার আলী খান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই না থাকায় সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ সীমিত হয়ে আছে। একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম থাকলে বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন, মেন্টরশিপসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা সম্ভব হতো।’

দর্শন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক আতিয়া ইবনাত বলেন, ‘কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই না থাকায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার সুযোগ কম। এমন একটি সংগঠন গড়ে উঠলে শিক্ষা, ক্যারিয়ার, গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নে সহযোগিতার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও মেন্টরশিপের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) আইন বিভাগের প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান লিমন বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছি। কিন্তু সবাইকে একসঙ্গে যুক্ত রাখার মতো কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই। এ কারণে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন কিংবা কোনো সাবেক শিক্ষার্থীর মানবিক সহায়তার প্রয়োজন হলেও সমন্বিতভাবে পাশে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জনি বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যাচ ও বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। অ্যালামনাই গড়ে উঠলে বর্তমান শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার, গবেষণা, ইন্টার্নশিপ ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা পাবে। পাশাপাশি মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজেও সাবেকরা ভূমিকা রাখতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুঃসময়ে মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তার বিষয়টিও একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমন্বয় করা সম্ভব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাজমুল হাসান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অ্যালামনাই গঠনের আলোচনা ও উদ্যোগ থাকলেও এখনো কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন গড়ে ওঠেনি। সমন্বয়ের অভাব, উদ্যোগের ধারাবাহিকতা না থাকা এবং সাংগঠনিক জটিলতার কারণে বিষয়টি বারবার পিছিয়েছে। সব ব্যাচ ও বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ এখন জরুরি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দফতরের পরিচালক এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগ ইতোমধ্যে তাদের সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন করেছে। তবে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় অ্যাসোসিয়েশন করা গেলে সেটি আরও কার্যকর হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ও গঠনমূলক উন্নয়নে অ্যালামনাইদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।’