নড়াইলে মানসুর হত্যা: থানায় আত্মসমর্পণ করলেন অভিযুক্ত হাসিব
জমি-জমা নিয়ে সালিশের জের ধরে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে মানসুর মোল্যাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত হাসিব মোল্যা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিয়া থানায় গিয়ে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী। আত্মসমর্পণকারী হাসিব মোল্যা কদমতলা গ্রামের লিপটন মোল্যার ছেলে।
এরআগে গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে মানসুর মোল্যাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে হাসিব মোল্যার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হন।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার পেড়লী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যা তার বংশীয় হাসিব মোল্যা ও হাসিবের দাদার জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসার জন্য সালিশে বসে। সালিশে জমি ভাগাভাগি নিয়ে ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যার সঙ্গে হাসিব মোল্যার বাকবিতন্ডা হয়। এরই জের ধরে পরদিন শনিবার রাতে কদততলা ত্রি-মোহনার মোড়ের একটি দোকানের সামনে মানসুর মোল্যা, নূর ইসলাম ও হাসিব মোল্যার মধ্যে সালিশের বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র বের করে হাসিব ভুক্তভোগী মানসুর ও নূর ইসলামকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানান। হামলায় গুরুতর আহত মানসুর ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত নূর ইসলামকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফিরে যান। ঘটনার পর থেকে হাসিব মোল্যা পলাতক ছিলেন।
ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যা বলেন, ‘সোমবার দুপুরে নিহত মানসুর মোল্যার বড় ভাই মাহবুর মোল্যা বাদী হয়ে কালিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় হাসিব মোল্যাসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার হাসিব ও তার দাদার জমি ভাগাভাগি নিয়ে সালিশ হয়েছিল। জমি-জমা নিয়ে সালিশের পর থেকেই হাসিব ক্ষুব্ধ ছিলেন। সালিশের বিষয় নিয়ে পরদিন মানসুর ও নূর ইসলামের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালান।,
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন,‘হাসিব মোল্যা থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন।’
