মূল লেখায় যান
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

বসকে খুশি করে চলা লাভ নাকি ক্ষতি? জানাল গবেষণা

প্রতিবেদক:
বসকে খুশি করে চলা লাভ নাকি ক্ষতি? জানাল গবেষণা

কর্মক্ষেত্রে বসের মন জুগিয়ে চলা কিংবা অতিরিক্ত প্রশংসা করা ক্যারিয়ারের জন্য কতটা উপকারী—এ নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত একটি বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা বলছে, বসকে খুশি করতে অতিরিক্ত তোষামোদ সাময়িকভাবে সুবিধা এনে দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা কর্মীর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

গবেষণা অনুযায়ী, বসের মতামতের সঙ্গে অতিরিক্ত একমত হওয়া, প্রশংসা করা কিংবা বিশেষ সুবিধা করে দেওয়ার মতো আচরণকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ইনগ্রেশিয়েশন’ বা চাটুকারিতা বলা হয়। এ ধরনের আচরণ বজায় রাখতে কর্মীকে অনেক সময় নিজের প্রকৃত অনুভূতি আড়াল করে কৃত্রিমভাবে আন্তরিকতা দেখাতে হয়। এতে মানসিক শক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ক্ষয় হতে পারে।

তোষামোদে কেন কমে আত্মনিয়ন্ত্রণ?

গবেষণার প্রধান গবেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক অ্যান্থনি ক্লটজের মতে, বসের সঙ্গে তোষামোদপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে কর্মীকে নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে চলতে থাকলে মানসিক শক্তির ওপর চাপ তৈরি হয়।

একপর্যায়ে সেই আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি কমে গেলে কর্মী কাজের প্রতি আগ্রহ হারাতে পারেন। এর প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতার ওপর নয়, সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণেও পড়তে পারে।

কর্মক্ষেত্রে যেসব নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে

গবেষণায় অতিরিক্ত চাটুকারিতার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে বেশ কিছু নেতিবাচক আচরণের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে—

জুনিয়র বা সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা।

গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক সভা বা দায়িত্ব এড়িয়ে চলা।

কর্মঘণ্টায় কাজের পরিবর্তে ইন্টারনেট ব্রাউজিং করে সময় নষ্ট করা।

দায়িত্ব পালনে অনীহা বা কর্মবিমুখতা তৈরি হওয়া।

গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত তোষামোদ কর্মীর মধ্যে এক ধরনের কৃত্রিম নিরাপত্তাবোধও তৈরি করতে পারে। ফলে নিজের আচরণ ও কাজের প্রতি নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কীভাবে গবেষণাটি করা হয়?

চীনের প্রায় ১০০ জন পেশাজীবীর ওপর টানা দুই কর্মসপ্তাহ গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের প্রতিদিনের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা লিখে রাখতে বলা হয়। পাশাপাশি তাদের পেশাগত ও সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা বা ‘পলিটিক্যাল স্কিল’ পরিমাপ করা হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, কোনো কর্মী প্রতিদিন যত বেশি বসকে তোষামোদ করেন, তার আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি তত বেশি ক্ষয় হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

সামাজিক দক্ষতা হতে পারে সুরক্ষাকবচ

তবে গবেষণায় একটি ইতিবাচক দিকও পাওয়া গেছে। যেসব কর্মীর সামাজিক ও পেশাগত যোগাযোগের দক্ষতা বা ‘পলিটিক্যাল স্কিল’ বেশি, তারা তোষামোদের পর নেতিবাচক আচরণে তুলনামূলক কম জড়ান।

গবেষকদের মতে, এই দক্ষতা আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি কমে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব থেকে কর্মীকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।

নেতৃত্বের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ

কর্মীর তোষামোদের জবাবে বস বা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

নেতৃত্ব যদি কর্মীদের ইতিবাচকভাবে উৎসাহিত করে এবং স্বীকৃতি দেয়, তাহলে কর্মীদের মানসিক শক্তি ও কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে। অর্থাৎ কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক নেতৃত্ব কর্মীদের ওপর তোষামোদজনিত নেতিবাচক প্রভাব কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণার সারকথা হলো, বসকে খুশি করতে সাময়িকভাবে অতিরিক্ত প্রশংসা সুবিধা এনে দিতে পারে মনে হলেও, নিয়মিত তোষামোদ দীর্ঘমেয়াদে কর্মীর মানসিক শক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষয় করতে পারে। তাই ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে কৃত্রিম প্রশংসার চেয়ে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও ইতিবাচক যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়াই বেশি কার্যকর।