মূল লেখায় যান
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঈশ্বরগঞ্জে মিছিলের ঘটনায় দুই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার এইমাত্রঅন্যান্য ঈশ্বরগঞ্জে মিছিলের ঘটনায় দুই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার এক যুগ পর একই দিনে নাটোরের সেই সড়কে ফের মৃত্যুর মিছিল, ২০১৪-তে ৩৭, ২৬-এ ১৪ প্রাণহানি এইমাত্রঅন্যান্য এক যুগ পর একই দিনে নাটোরের সেই সড়কে ফের মৃত্যুর মিছিল, ২০১৪-তে ৩৭, ২৬-এ ১৪ প্রাণহানি কৃষক কার্ডের মাধ্যমে জানতে পারবেন আগামীকাল বৃষ্টি হবে কিনা: প্রধানমন্ত্রী এইমাত্রঅন্যান্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে জানতে পারবেন আগামীকাল বৃষ্টি হবে কিনা: প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ এড়াতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া হলো নতুন প্রস্তাব এইমাত্রঅন্যান্য যুদ্ধ এড়াতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া হলো নতুন প্রস্তাব ডিজেল পাচারের অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দরের ২ কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত এইমাত্রঅন্যান্য ডিজেল পাচারের অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দরের ২ কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত পঞ্চগড়ে রাতের আধারে সরকারী গাছ কাটার অভিযোগ তাঁতী দল নেতার বিরূদ্ধে এইমাত্রঅন্যান্য পঞ্চগড়ে রাতের আধারে সরকারী গাছ কাটার অভিযোগ তাঁতী দল নেতার বিরূদ্ধে এক বছরেও শুরু হয়নি জোবায়েদ হত্যার বিচার, কান্না থামেনি বাবা-মায়ের  এইমাত্রঅন্যান্য এক বছরেও শুরু হয়নি জোবায়েদ হত্যার বিচার, কান্না থামেনি বাবা-মায়ের  অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির ক্লোজড এইমাত্রঅন্যান্য অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির ক্লোজড
অন্যান্য

এক বছরেও শুরু হয়নি জোবায়েদ হত্যার বিচার, কান্না থামেনি বাবা-মায়ের 

প্রতিবেদক:
এক বছরেও শুরু হয়নি জোবায়েদ হত্যার বিচার, কান্না থামেনি বাবা-মায়ের 

পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসেন খুনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি বিচার প্রক্রিয়া। বিচারহীনতার এই দীর্ঘ অপেক্ষায় প্রতিদিন চোখের জল ফেলছেন নিহতের বৃদ্ধ বাবা-মা। স্বজনদের আকুতি—দ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

গত বছরের ১৯ অক্টোবর ঢাকার নূর বক্স লেনের একটি ভবনে ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে নির্মমভাবে খুন হন জোবায়েদ। ওই দিন বিকাল সাড়ে ৪টায় ছাত্রীটির বাসার নিচতলায় তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। এ ঘটনায় জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ঘটনার আট মাস পর গত ৩০ জুন বংশাল থানার এসআই আশরাফ হোসেন তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। অভিযুক্তরা হলেন—জোবায়েদের ছাত্রী শাবনাম বর্ষা, তার তথাকথিত প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। বর্তমানে মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক মাজহারুল ইসলামের এজলাসে বিচারাধীন। তিন আসামিই কারাগারে রয়েছেন।

মামলাসূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর মামলার অভিযোগ গঠনের (চার্জ গঠন) দিন ধার্য থাকলেও তা পিছিয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর পুনঃনির্ধারণ করেছেন আদালত। ঐ দিন আসামিদের জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করেন বিচারক।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন খান বলেন, “মামলাটি বিচারের জন্য আমাদের আদালতে এসেছে। আগামী ২৮ অক্টোবর চার্জ গঠনের দিন ধার্য রয়েছে। আমরা আশা করছি ওই দিনই অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হবে এবং দ্রুত সাক্ষী হাজির করে বিচার শেষ করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে বছর পার হলেও বিচার শুরু না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত। তিনি বলেন, “ভাই হত্যার বিচারটা হলে অন্তত বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিতে পারতাম। আজ এক বছর হয়ে গেল, বিচারই শুরু হলো না। প্রতিদিন মা কান্নাকাটি করেন, বাবার চোখে পানি। তারা জানতে চান বিচার কবে শুরু হবে, কবে রায় হবে—আমি কোনো জবাব দিতে পারি না। আমরা আসামিদের দ্রুত ও সর্বোচ্চ সাজা চাই।”

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা পরস্পরবিরোধী দাবি করছেন। ছাত্রী বর্ষার আইনজীবী নূর মাহাবুবুল আলম দাবি করেন, বর্ষা নির্দোষ এবং ষড়যন্ত্রের শিকার। অন্যদিকে মাহিরের আইনজীবী এম রাশেদুজ্জামান দাবি করেন, ত্রিভুজ প্রেমের টানাপোড়েন ও জোবায়েদের কাছ থেকে ব্লেকমেইলিংয়ের শিকার হয়েই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মূল পরিকল্পনায় বর্ষাই জড়িত ছিলেন।

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন ছাত্র জোবায়েদ। ঘটনার দিন বিকেলে পড়াতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি তিনি। পরে ওই ভবনের সিঁড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের স্বপ্ন ছিল ছেলে বড় হয়ে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হবে, কিন্তু আততায়ীর ছুরিকাঘাতে মুহূর্তেই নিভে যায় একটি সম্ভাবনাময় প্রাণ। এখন আদালতের দিকে তাকিয়ে বিচারের প্রহর গুনছে পুরো পরিবার।