মূল লেখায় যান
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
খালেদা জিয়াকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য, যুবক আটক এইমাত্রঅন্যান্য খালেদা জিয়াকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য, যুবক আটক জানাজা-দাফনে বাধা, ক্ষমতায় গেলে আরও বর্বর হবে: রাশেদ খাঁন এইমাত্রঅন্যান্য জানাজা-দাফনে বাধা, ক্ষমতায় গেলে আরও বর্বর হবে: রাশেদ খাঁন ৩ হাজার লাউয়ের দামে মিলছে ১ কেজি গরুর মাংস এইমাত্রঅন্যান্য ৩ হাজার লাউয়ের দামে মিলছে ১ কেজি গরুর মাংস ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ এইমাত্রঅন্যান্য ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তির আত্মপ্রকাশ, শীর্ষ নেতৃত্বে মাহিন-আরিফ-রনি এইমাত্রঅন্যান্য জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তির আত্মপ্রকাশ, শীর্ষ নেতৃত্বে মাহিন-আরিফ-রনি শীতে টকদই খেলে কি সত্যিই সর্দি-কাশি বাড়ে? এইমাত্রঅন্যান্য শীতে টকদই খেলে কি সত্যিই সর্দি-কাশি বাড়ে? কুমিল্লায় বিক্রি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, গ্রেফতার ৪ এইমাত্রঅন্যান্য কুমিল্লায় বিক্রি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, গ্রেফতার ৪ নাটোরের সিংড়ায় স্বামীর থাপ্পড়ে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ এইমাত্রঅন্যান্য নাটোরের সিংড়ায় স্বামীর থাপ্পড়ে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ
অন্যান্য

ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ

প্রতিবেদক:
ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ আলী হোসেন ফকিরের ‘সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ’—এমন বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং মানবাধিকার সংস্থা অধিকার। তাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে অপরাধ দমনের গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত পৃথক বিবৃতিতে সংস্থা দুটি আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত এবং এ ধরনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

টিআইবির বিবৃতিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা মোকাবিলার পরিবর্তে ক্রসফায়ারকে অপরাধ দমনের হাতিয়ার হিসেবে সামনে আনা বিপজ্জনক বার্তা দেয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিজেদের ব্যর্থতার দায় এড়াতে পুলিশপ্রধান ক্রসফায়ারকে ব্যবহার করতে চাইছেন কি না। সরকারের অনুমতির শর্ত জুড়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনা তুলে ধরা আইনসম্মত উপায়ে অপরাধ দমনে ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুলিশের দায়িত্ব পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করা এবং গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা। এর বিকল্প হিসেবে ক্রসফায়ারকে সামনে আনা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সমাধান নয়; বরং এটি পেশাগত দেউলিয়াত্বের দৃষ্টান্ত।

তিনি আরও বলেন, আইজিপি একই বক্তব্যে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন, আবার সরকারের অনুমতি পেলে ক্রসফায়ার করার কথাও বলেছেন। এই দুই অবস্থান পরস্পরবিরোধী। কোনো সরকারের অনুমতি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে পারে না। সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত আইনের আশ্রয়লাভ, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নির্বাহী সিদ্ধান্তে বাতিল করা যায় না। অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, বিচারপ্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে কাউকে হত্যার এখতিয়ার পুলিশের নেই।

বিবৃতিতে অতীতের কয়েকটি আলোচিত ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় পুলিশ সদস্যদের দণ্ড এবং মামলাসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসা ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ এ ধরনের পদ্ধতির ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দেয়।

এ ছাড়া টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা এবং তাঁর পরিবারের প্রকাশ করা অডিও নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় র‍্যাবের সাবেক কর্মকর্তাদের দণ্ডের বিষয়টিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহারের বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। অতীতের এসব ঘটনা থেকে পুলিশ কী শিক্ষা নিয়েছে, সে প্রশ্নের উত্তর আইজিপিকেই দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

টিআইবির আশঙ্কা, পুলিশপ্রধানের এ ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ে বেআইনি বলপ্রয়োগের প্রচ্ছন্ন অনুমোদন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যাঁর দায়িত্ব বাহিনীকে আইনের মধ্যে থেকে পরিচালনা করা, তাঁর বক্তব্যেই ক্রসফায়ারের সম্ভাবনা উঠে এলে নেতৃত্বের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

টিআইবির বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সরকার সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে যাবে না; বিদ্যমান আইন দিয়েই সন্ত্রাস দমন সম্ভব।

এ অবস্থায় সরকারের ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে আইজিপির বক্তব্যের অসংগতি কেন, তা ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার, প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং তাঁর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে টিআইবি। জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দায়িত্ব থেকে অপসারণেরও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

পুলিশের বলপ্রয়োগ আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হতে হবে উল্লেখ করে টিআইবি বলেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আগ্নেয়াস্ত্রের ইচ্ছাকৃত প্রাণঘাতী ব্যবহার কেবল জীবন রক্ষার জন্য কঠোরভাবে অনিবার্য পরিস্থিতিতেই গ্রহণযোগ্য। এই সীমিত সুযোগকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অনুমোদন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অর্থ না পেয়ে পুলিশের সমালোচনা করার অভিযোগের প্রসঙ্গেও উদ্বেগ জানিয়েছে টিআইবি।

সংস্থাটির মতে, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। ঢালাও অভিযোগ গণমাধ্যমের নজরদারি ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতাকে নিরুৎসাহিত করার ঝুঁকি তৈরি করে।

পুলিশের কাজের পরিবেশ ও সক্ষমতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হলেও তা বৈধ সমালোচনা এড়িয়ে যাওয়ার যুক্তি হতে পারে না বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, পৃথক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার বলেছে, শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের বহু ঘটনা ঘটেছে। ওই সময়ে ভিন্নমতাবলম্বী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

অধিকারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে পুলিশের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তির মুখে ক্রসফায়ারের সম্ভাবনার কথা উঠে আসা উদ্বেগজনক।

সংস্থাটির দাবি, বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পাঁচটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে। আইজিপির বক্তব্যের পর এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অধিকার।

অধিকার আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেছে, এ সময়ে সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করতে হবে। তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবি ও অধিকারের মতে, অপরাধ দমনের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সুযোগ তৈরি না করে আইনসম্মত তদন্ত, প্রমাণভিত্তিক বিচার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার।