মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৮:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গাজীপুরে শ্রমিকদলের কমিটি ঘোষণা- সভাপতি লাবলু, সাধারণ সম্পাদক কাশেম এইমাত্রঅন্যান্য গাজীপুরে শ্রমিকদলের কমিটি ঘোষণা- সভাপতি লাবলু, সাধারণ সম্পাদক কাশেম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে: ইরান এইমাত্রঅন্যান্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে: ইরান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৭.৩৪ বিলিয়ন ডলার এইমাত্রঅন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৭.৩৪ বিলিয়ন ডলার রেফ্রিজারেটরের কনডেনসারে নতুন যুগ, কপারের জায়গা নিচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি এইমাত্রঅন্যান্য রেফ্রিজারেটরের কনডেনসারে নতুন যুগ, কপারের জায়গা নিচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি কুমিল্লায় মাদক বিরোধী সমাবেশে মাদকের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখায় সন্ত্রাসী হামলা এইমাত্রঅন্যান্য কুমিল্লায় মাদক বিরোধী সমাবেশে মাদকের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখায় সন্ত্রাসী হামলা অর্ডার কনফার্মের পর পণ্য নিতে গিয়ে অতিরিক্ত দাম চাওয়ার অভিযোগ রায়ান্স কম্পিউটারের বিরুদ্ধে এইমাত্রঅন্যান্য অর্ডার কনফার্মের পর পণ্য নিতে গিয়ে অতিরিক্ত দাম চাওয়ার অভিযোগ রায়ান্স কম্পিউটারের বিরুদ্ধে ‘গোলমাল ৫’-এর শুটিং প্রায় শেষ, মুক্তির তারিখ নিয়ে যা জানা গেল এইমাত্রঅন্যান্য ‘গোলমাল ৫’-এর শুটিং প্রায় শেষ, মুক্তির তারিখ নিয়ে যা জানা গেল রাজপথ থেকে বঙ্গভবন: রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম এইমাত্রঅন্যান্য রাজপথ থেকে বঙ্গভবন: রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম
অন্যান্য

ঘুমানোর আগে স্মার্টফোন ব্যবহার, ডেকে আনছেন বড় বিপদ!

প্রতিবেদক: স্টাফ রিপোর্টার, বাংলা ব্রিফ
ঘুমানোর আগে স্মার্টফোন ব্যবহার, ডেকে আনছেন বড় বিপদ!

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় মোবাইলের পাশে বা বালিশের নিচে রাখা আজকাল অনেকেরই অভ্যাস। ফোন যেন এক মুহূর্তের জন্যও আমাদের থেকে দূরে থাকতে পারে না। ফোনে কল, মেসেজ বা ই-মেইল আসামাত্রই আমরা সাড়া দিই। সবসময় কানেক্টেড থাকা- এটাই তো আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা, তাই না?

কিন্তু এই অভ্যাস আমাদের ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানান ঘুম-বিশেষজ্ঞ ড. মিশেল ড্রেরাপ।

চলুন ড. মিশেল ড্রেরাপের ভাষায় জেনে নিই, কেন ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহার না করাই ভালো।

হ্যাঁ, ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে ফোন ব্যবহার করলে ঘুমের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে।

 

অনেকেই মনে করেন, শুয়ে শুয়ে একটু ফোন ঘাঁটা ক্ষতিকর না। কিন্তু এই ছোট্ট অভ্যাসটিই আপনার ঘুমের বড় শত্রু হয়ে উঠতে পারে।

‘ডুমস্ক্রোলিং’ অর্থাৎ একের পর এক চিন্তাজনক বা নেতিবাচক কনটেন্ট স্ক্রল করে যাওয়া, মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে তোলে, ঘুম বিলম্বিত করে এবং রেম (REM) ঘুম শুরু হতে দেরি করে। ফলে আপনার ঘুম ভেঙে যেতে পারে, বা ঘুম পেতে দেরি হয়।

এখানে শুধু ফোন দেখা নয়, কীভাবে আপনি ফোন ব্যবহার করছেন, সেটাও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ড. ড্রেরাপ জানান, যদি কেউ শুধু ফোনে গান শোনে বা হালকা কিছু দেখে, তাহলে সেটা ততটা খারাপ নয়। কিন্তু যদি কেউ সক্রিয়ভাবে চ্যাট করে বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, সেটি ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।

ফোন কীভাবে আপনার ঘুমকে নষ্ট করে?

মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে

ঘুমাতে যাওয়ার সময় মস্তিষ্ককে শান্ত রাখা দরকার। কিন্তু ফোন দেখলে মস্তিষ্ক আবার জেগে ওঠে। শুধু একটু মেসেজ চেক করাও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

আর ফোনটা বালিশের নিচে থাকলে, সেই মেসেজ বা কলের শব্দ শুনেই আমরা উত্তেজিত হয়ে যাই।

ফোনের নীল আলো (Blue Light) ক্ষতিকর

ফোনের স্ক্রিন থেকে যে নীল আলো বের হয়, সেটা দিনের আলো নকল করে। দিনে এটি ঠিক আছে, কিন্তু রাতে এই আলো আপনার ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন কমিয়ে দেয়।

ফলে আপনার শরীরের সার্কেডিয়ান রিদম (ঘড়ির মতো শরীরের অভ্যন্তরীণ সময়সূচি) বিঘ্নিত হয়। এতে ঘুম কমে, ক্লান্তি বাড়ে এবং মেজাজ খারাপ হয়।

তবে এটা নির্ভর করে আপনি কতক্ষণ এবং কীভাবে ফোন ব্যবহার করছেন তার ওপর। কেউ যদি টানা ২ ঘণ্টা স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকে, তার প্রভাব বেশি। কিন্তু কেউ যদি ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে কেবল ক্যালেন্ডার দেখে বা হালকা কিছু পড়ে, তাহলে সমস্যা কম।

আবেগ বাড়ায়, মানসিক চাপ তৈরি করে

ঘুমানোর সময় মস্তিষ্ককে শান্ত রাখা দরকার। কিন্তু আপনি যদি ঘুমাতে যাওয়ার আগে এমন কিছু দেখেন যা মন খারাপ করে দেয়, রাগায় বা উত্তেজনা সৃষ্টি করে- তাহলে ঘুম আসবে না।

এমনকি খুব আনন্দের কিছু দেখলেও অনেক সময় ঘুম দেরি হতে পারে, কারণ আপনার মস্তিষ্ক তখনো সক্রিয় থাকে।

কতক্ষণ আগে ফোন বন্ধ করা উচিত?

একটা নির্দিষ্ট নিয়ম নেই, তবে ভালো হয় ঘুমাতে যাওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে মোবাইল ও অন্যান্য স্ক্রিন বন্ধ করে দিলে। শুধু ফোন নয়, টিভি, ট্যাবলেট- সব ডিভাইস থেকে বিরতি নেওয়াই ভালো। এ সময়ে মন শান্ত রাখতে এমন কিছু করতে পারেন যা ঘুমে সাহায্য করে :

– মেডিটেশন

– ধ্যান

– বই পড়া

– ধীরগতির মিউজিক শোনা

– হালকা যোগব্যায়াম ইত্যাদি

যদি ফোন বন্ধ রাখা কষ্টকর মনে হয়, তাহলে ফোনটি অন্য ঘরে রেখে ঘুমান। অথবা ফোনে ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ বা ‘নাইট মোড’ চালু করে রাখতে পারেন যাতে নোটিফিকেশন না আসে।

অভ্যাস বদলান, ঘুম ভালো হবে

ঘুমাতে যাওয়ার সময় ফোন ঘাঁটার অভ্যাস এক ধরনের আসক্তি। সবসময় connected থাকতেই হবে বা উত্তর দিতে হবে এই মানসিকতা থেকেই এই সমস্যা তৈরি হয়।

কিন্তু আপনি যদি এই অভ্যাস ধীরে ধীরে বদলান, দেখবেন আপনার ঘুম অনেক উন্নত হয়েছে। এক কথায়, ঘুমের আগে মোবাইল ব্যবহার কমানো শুধু চোখ বা মস্তিষ্কের জন্যই নয়, পুরো শরীরের সুস্থতার জন্যই জরুরি।

আপনার ঘুম আপনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। একটুখানি সচেতনতা আপনার ঘুম, মন এবং শরীর- সব কিছুকে বদলে দিতে পারে।

তথ্যসূত্র : ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক