আধা ঘণ্টায় দখলমুক্ত ফুটপাত, দেড় ঘণ্টা পরই আবার বসছে দোকানপাট
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান, হকার-সিএনজি স্ট্যান্ড ও অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগের আশ্বাস প্রশাসনের।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের সড়কবাজারে যানজট যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। শহরে প্রবেশ করলেই যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যানজট নিরসনে মাঝে মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ফুটপাত দখলমুক্ত ও জরিমানা করা হলেও কিছু সময় পর আবার আগের চিত্র ফিরে আসে।
সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলেও দেড় ঘণ্টা পর থেকেই আবার ফুটপাত ও সড়কের পাশে বসতে শুরু করে দোকানপাট। এতে প্রশ্ন উঠেছে—সাময়িক অভিযান নয়, প্রয়োজন স্থায়ী সমাধানের।
সড়কবাজারে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যানজটের অন্যতম কারণ হলো ফুটপাত দখল করে ভাসমান দোকান বসানো, সড়কের ওপর সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড, যত্রতত্র মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক পার্কিং।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, যানজট নিরসনে প্রথমে হকারদের জন্য নির্ধারিত একটি জায়গার ব্যবস্থা করে তাদের ফুটপাত থেকে সরিয়ে নিতে হবে। বাজার ইজারাদাররা হকারদের কাছ থেকে প্রতিদিন টাকা নিয়ে সড়কের পাশে বসার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও বলেন, সিএনজি অটোরিকশা থেকেও প্রতিদিন টাকা নিয়ে সড়কের ওপর স্ট্যান্ড করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাই বাজারের রাস্তা থেকে সিএনজি স্ট্যান্ড সরিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান তৈরি করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন আব্দু মিয়া বলেন, “হকারদের বসার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। স্ট্যান্ড সরানোর জন্যও জায়গার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন বলেন, “হকারদের ফুটপাত ছেড়ে অন্যত্র বসার জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা করা হবে। সড়ক থেকে স্ট্যান্ড সরানোর পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, “জনগণের ভোগান্তি কমাতে যানজট নিরসনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। হকারদের স্থায়ী ব্যবস্থা করার জন্য পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।”
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া বলেন, “সড়কবাজারের ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করতে পৌরসভা কাজ করছে। ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত জায়গায় বসার ব্যবস্থা করা হবে, যা খুব দ্রুত দৃশ্যমান হবে।”
সিএনজি স্ট্যান্ড সরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, “বর্তমান জায়গাটি অপ্রতুল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে সিএনজি স্ট্যান্ডের জন্য স্থায়ী জায়গার ব্যবস্থা করে তা সরানো হবে।”
মোটরসাইকেল পার্কিং প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, “পৌরসভার সর্ভর্বশেষ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে বাজার থেকে দূরে একটি নির্ধারিত স্থানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। মাইক্রোস্ট্যান্ডের পাশে খালি জায়গাটি পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত অভিযান নয়—যানজট নিরসনে হকার, সিএনজি স্ট্যান্ড ও অবৈধ পার্কিংয়ের স্থায়ী সমাধান করা না গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা কোনো কার্যকর ফল বয়ে আনবে না।
