মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সরকারি দলের বক্তব্যে সন্ত্রাস বাড়ছে, অভিযোগ জামায়াত আমিরের এইমাত্রঅন্যান্য সরকারি দলের বক্তব্যে সন্ত্রাস বাড়ছে, অভিযোগ জামায়াত আমিরের করের মাধ্যমে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর বৈধতা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি: বিটিসিএ এইমাত্রঅন্যান্য করের মাধ্যমে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর বৈধতা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি: বিটিসিএ ইরান চুক্তিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা নেতানিয়াহুর এইমাত্রঅন্যান্য ইরান চুক্তিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা নেতানিয়াহুর দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়লেন বিএনপি কর্মী এইমাত্রঅন্যান্য দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়লেন বিএনপি কর্মী দেশে গাঁজাখোর ৬১ লাখ! এইমাত্রঅন্যান্য দেশে গাঁজাখোর ৬১ লাখ! মাদক সেবনের দায়ে দুই যুবকের মাথা ন্যাড়া করে দিল বিক্ষুব্ধ জনতা  এইমাত্রঅন্যান্য মাদক সেবনের দায়ে দুই যুবকের মাথা ন্যাড়া করে দিল বিক্ষুব্ধ জনতা  সম্প্রীতি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর এইমাত্রঅন্যান্য সম্প্রীতি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ‘ফাইনাল পর্যন্ত’ জানা গেল আর্জেন্টিনার সূচি, শেষ প্রতিপক্ষ কারা এইমাত্রঅন্যান্য ‘ফাইনাল পর্যন্ত’ জানা গেল আর্জেন্টিনার সূচি, শেষ প্রতিপক্ষ কারা
অন্যান্য

ইরান চুক্তিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা নেতানিয়াহুর

প্রতিবেদক:
ইরান চুক্তিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা নেতানিয়াহুর

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক সমঝোতা চুক্তি ইসরায়েলের ইরাননীতি নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষক, সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা।

দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহু নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে উপস্থাপন করে আসছিলেন, যিনি ওয়াশিংটনকে ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থানের সঙ্গে একই পথে রাখতে সক্ষম। রিপাবলিকানদের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে তিনি দাবি করতেন, ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সামরিক চাপই একমাত্র কার্যকর উপায়।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সমঝোতা সেই ধারণাকে উল্টে দিয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে প্রভাবিত করার পরিবর্তে নেতানিয়াহুকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ মেনে নিতে হচ্ছে।

সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ডেনিস রস বলেন, নেতানিয়াহু বর্তমানে এক কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে সংঘাত বন্ধে আগ্রহী ট্রাম্প প্রশাসন, অন্যদিকে আপসের বিরোধী তার নিজস্ব রাজনৈতিক সমর্থকগোষ্ঠী। ফলে তিনি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—দুই দিক থেকেই চাপে রয়েছেন।

নেতানিয়াহুর সাবেক উপদেষ্টা আভিভ বুশিনস্কি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধাক্কা। তিনি শুধু ইরানের সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াইয়েই পিছিয়ে পড়েননি, বরং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবেও আগের অবস্থান হারিয়েছেন।”

তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক অংশীদারত্বের, যেখানে অনেক বিষয়ে তারা একমত হন, আবার কিছু বিষয়ে মতপার্থক্যও থাকে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এখনও শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার ক্ষেত্রে ইসরায়েল গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ‘অটুট’ রয়েছে এবং এতে কোনো পরিবর্তন আসছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ এড়িয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে নেতানিয়াহু ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চাপ অব্যাহত রাখাকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য মনে করেন। এই ভিন্ন অবস্থান দুই মিত্র দেশের মধ্যে কৌশলগত দূরত্ব তৈরি করেছে।

গালফ অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, গাজা যুদ্ধ, পশ্চিম তীর ইস্যু এবং আঞ্চলিক রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আগের তুলনায় বেশি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে তারা তেহরানের সঙ্গেও নতুন করে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যে যুদ্ধ নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করেছিলেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত তার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স।