মূল লেখায় যান
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ৫৮৯, নিখোঁজ শতাধিক

প্রতিবেদক:
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ৫৮৯, নিখোঁজ শতাধিক

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। এখনও শতাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন এবং অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (২৪ জুন) দেশটির উত্তরাঞ্চলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য এবং রাজধানী কারাকাসের আশপাশের এলাকা।

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৬ জুন) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মৃতের সংখ্যা ৫৮৯ জনে পৌঁছানোর কথা জানান। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা এলাকায় নিরাপত্তা ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদারে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, ব্রাজিলসহ অন্তত সাতটি দেশ উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারী কুকুরও ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে উদ্ধারকাজে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভূমিকম্পে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদেশি সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানায়, ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতাও এই দুর্যোগে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঞ্চলের তিনটি সরকারি হাসপাতালের মধ্যে দুটি অচল হয়ে গেছে। একমাত্র সচল হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসামগ্রী, পানি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে ভূমিকম্পে অন্তত ২৫০টি ভবন ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। আফটারশকের আশঙ্কায় অনেকেই খোলা জায়গা ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

উদ্ধার হওয়া ১৭ বছর বয়সী হুয়ান ডেভিড আরসিয়া নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তিনি তার মায়ের সঙ্গে ২১ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা ছিলেন। পরে প্রতিবেশীরা তাদের জীবিত উদ্ধার করেন।

কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকা থাকতে পারেন। তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।