মূল লেখায় যান
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন যবিপ্রবির শিক্ষক এইমাত্রঅন্যান্য বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন যবিপ্রবির শিক্ষক ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্স আর নেই এইমাত্রঅন্যান্য ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্স আর নেই রক্তের বিনিময়ে হলেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধরে রাখতে হবে: তথ্যমন্ত্রী এইমাত্রঅন্যান্য রক্তের বিনিময়ে হলেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধরে রাখতে হবে: তথ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ বাংলাদেশের, যে জবাব দিল ভারত এইমাত্রঅন্যান্য শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ বাংলাদেশের, যে জবাব দিল ভারত আসছে শতাব্দীর অন্যতম দীর্ঘতম সূর্যগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব এলাকায় এইমাত্রঅন্যান্য আসছে শতাব্দীর অন্যতম দীর্ঘতম সূর্যগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব এলাকায় গোপালপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও সম্মাননা প্রদান এইমাত্রঅন্যান্য গোপালপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও সম্মাননা প্রদান ২ মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত সেই চাচি গ্রেপ্তার এইমাত্রঅন্যান্য ২ মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত সেই চাচি গ্রেপ্তার বরগুনায় জোয়ারের পানি বেড়ে ডুবে গেছে ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে এইমাত্রঅন্যান্য বরগুনায় জোয়ারের পানি বেড়ে ডুবে গেছে ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে
অন্যান্য

মাংস উৎপাদনকারী নতুন মুরগীর জাত উদ্ভাবন করলেন বাকৃবি গবেষক

প্রতিবেদক:
মাংস উৎপাদনকারী নতুন মুরগীর জাত উদ্ভাবন করলেন বাকৃবি গবেষক

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরা দীর্ঘ ১৫ বছরের নিরলস গবেষণায় সফলভাবে একটি নতুন মাংস উৎপাদনকারী রঙিন মুরগির জাত উদ্ভাবন করেছেন।

এই নতুন জাত উন্নয়নের মূল নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা। তিনি জানান, ভোক্তার চাহিদা ও খামারিদের অর্থনৈতিক লাভের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে বিভিন্ন প্যারেন্ট লাইন সংরক্ষণ, নির্বাচন ও সংকরায়ণের মাধ্যমে এই নতুন লাইন উন্নয়ন করা হয়েছে।

গবেষণা প্রকল্পটি প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি) এর অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে।

অধ্যাপক মোল্যা বলেন, গবেষণায় সেক্স-লিংক হোয়াইট লাইনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এর সমজাতীয়তা বা হোমোজাইগোসিটি ৮৯ থেকে ৯৩.১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা একটি স্থায়ী জাত হিসেবে বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া মুরগির পালকের রঙ নির্ধারণকারী এসওএক্স-১০ জিনের ডিলিশন শনাক্তে একটি সহজ পিসিআর পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজনন কর্মসূচিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, জাতটির কিছু প্যারেন্ট লাইন ৬২ সপ্তাহে প্রায় ২০৫টি পর্যন্ত ডিম উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া প্রচলিত সোনালি মুরগির একদিন বয়সী বাচ্চার ওজন যেখানে সাধারণত ২৬ থেকে ২৮ গ্রাম হয়, সেখানে নতুন উদ্ভাবিত সংকর লাইনে বাচ্চার ওজন পাওয়া গেছে প্রায় ৩৮ গ্রাম। একদিন বয়সী বাচ্চার ওজনে প্রতি এক গ্রাম বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব বাজারজাতকরণের সময় প্রায় ৫০ গ্রাম অতিরিক্ত চূড়ান্ত ওজনে প্রতিফলিত হয়, যা খামারিদের বাড়তি মুনাফা নিশ্চিত করবে।

এই গবেষণা প্রকল্পের অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল সরাসরি মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর। প্রথাগত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা দূর করতে গবেষণা দল সরাসরি গ্রামে গিয়ে ১৫ থেকে ২৫ জনের ক্লাস্টারভিত্তিক নারী খামারিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। মাঠপর্যায়ের ফলাফলে দেখা গেছে, যেসব খামারিকে বাচ্চার পাশাপাশি নিয়মিত কারিগরি সহায়তা, সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে, তাদের খামারে মুরগির বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা উন্নত হয়েছে এবং মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে। বাজার চাহিদার কারণে অনেক খামারি নির্ধারিত ৫০ দিনের পরিবর্তে ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত এই মুরগি পালন করছেন এবং প্রতি কেজি ৭০০ টাকা পর্যন্ত উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

ভোক্তা অধিকার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে ড. মোল্যা জানান, ঢাকার একটি উন্নত গবেষণাগারে এই মুরগির মাংস পরীক্ষা করে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়নি। বাজারে দেশি মুরগির নামে চালিয়ে ক্রেতা প্রতারণার কোনো সুযোগ থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, দেশি মুরগির নাম ভাঙানো নয়, বরং উন্নত স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও শতভাগ নিরাপদ মাংসের নিশ্চয়তা দিয়ে এটিকে বাজারে একটি স্বতন্ত্র রঙিন মাংসের ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

উদ্ভাবনটির মাঠপর্যায়ে প্রসারের ওপর জোর দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, শুধু ল্যাবরেটরিতে জাত উদ্ভাবন করলেই হবে না, সেই প্রযুক্তি ও সুফল খামারিদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল দর্শন। এর মাধ্যমে খামারিরা লাভবান হবেন এবং দেশের নিরাপদ প্রাণিজ প্রোটিন উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিসম্পদ অনুষদের বন্ধ থাকা বিক্রয় কেন্দ্রটি দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণায় উৎপাদিত দুগ্ধ, মাংস ও পোলট্রিজাত সব পণ্য সরাসরি এই বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে পৌঁছে দিতে হবে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো: শওকত আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণাটির চূড়ান্ত ফলাফল তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও পোলট্রি খাতের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। শেষে নতুন উদ্ভাবিত এই মুরগির মাংস দিয়ে প্রস্তুত খাবার পরিবেশন করা হয়।