মূল লেখায় যান
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার এইমাত্রঅন্যান্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার পরিকল্পিত ঢাকার স্বপ্ন থমকে, ড্যাপ বাস্তবায়নে রাজউককে আইনি নোটিশ এইমাত্রঅন্যান্য পরিকল্পিত ঢাকার স্বপ্ন থমকে, ড্যাপ বাস্তবায়নে রাজউককে আইনি নোটিশ ১৭ বছর পর রাজধানীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত এইমাত্রঅন্যান্য ১৭ বছর পর রাজধানীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ২৯ মামলার আসামি ফরহাদ মন্ডল গ্রেপ্তার এইমাত্রঅন্যান্য ২৯ মামলার আসামি ফরহাদ মন্ডল গ্রেপ্তার সালথায় খাল খনন শেষে সরকারি কোষাগারে ৭৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও  এইমাত্রঅন্যান্য সালথায় খাল খনন শেষে সরকারি কোষাগারে ৭৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও  তদন্তে গিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, থানার এসআই ক্লোজড এইমাত্রঅন্যান্য তদন্তে গিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, থানার এসআই ক্লোজড বাঘারপাড়ায় ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি তামিম আটক এইমাত্রঅন্যান্য বাঘারপাড়ায় ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি তামিম আটক ডোপ টেস্টে মাদকসেবী শনাক্ত, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কার এইমাত্রঅন্যান্য ডোপ টেস্টে মাদকসেবী শনাক্ত, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কার
অন্যান্য

জয়পুরহাটে মেট্রন হত্যা মামলায় দারোয়ানের যাবজ্জীবন

প্রতিবেদক:
জয়পুরহাটে মেট্রন হত্যা মামলায় দারোয়ানের যাবজ্জীবন

জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের মেট্রন সামছুন নাহার হত্যা মামলার দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে কলেজের দারোয়ান শহিদুল ইসলামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১৩ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও আড়াই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. তসরুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আহসান হাবীব চপল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম (৫৫) জয়পুরহাট শহরের পশ্চিম দেবীপুর মহল্লার ছলিম উদ্দিনের ছেলে এবং জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের দারোয়ান ছিলেন।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২১ নভেম্বর রাতে জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের অস্থায়ী মেট্রন সামছুন নাহার নিখোঁজ হন। চার দিন পর, ২৫ নভেম্বর তাঁর ভাই ফেরদৌস আলম লুলু জয়পুরহাট সদর থানায় শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের ১৮ দিন পর, ৯ ডিসেম্বর কলেজের ছাত্রীনিবাসের সেপটিক ট্যাংক থেকে সামছুন নাহারের বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে শহিদুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজের দারোয়ান শহিদুল ইসলাম কলেজে ছাত্রীনিবাসের মেট্রন সামছুন নাহারকে উত্ত্যক্ত ও অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে সামছুন নাহার রাজি ছিলেন না। ঘটনার দিন তিনি সামছুন নাহারকে ডেকে নিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তিনি সামছুন নাহারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর তাঁর গলার স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও আংটি খুলে নেন। হত্যাকাণ্ড গোপন করতে হাসুয়া দিয়ে মরদেহের পেট কেটে কলেজ চত্বরের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখেন। পরে তাঁর কাছ থেকে লুট করা স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়পুরহাট সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম ২০১০ সালের ৫ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় দেন।

জয়পুরহাট আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত শহিদুল ইসলামকে কড়া পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের মেট্রন সামছুন নাহার হত্যা মামলাটি জেলার অন্যতম আলোচিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দীর্ঘদিন জনমনে আলোচনায় ছিল। প্রায় ১৭ বছর পর এ রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি হলো।