ন্যাটো সম্মেলনের আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত ২০
ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সোমবার ভোরে চালানো এ হামলায় কিয়েভে অন্তত ১৪ জন নিহত ও ৪৬ জন আহত হন। এছাড়া রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলোতে আরও ছয়জন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাতভর দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। হামলায় কিয়েভের একাধিক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো বলেছেন, উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, ন্যাটো সম্মেলনের আগে রাশিয়া নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকের আগে সামরিক চাপ বাড়িয়ে দেন। চলতি সপ্তাহে ন্যাটো-র সম্মেলনে জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ইউক্রেন দাবি করেছে, তাদের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বৃহত্তম তেল শোধনাগারগুলোর একটি, ওমস্ক রিফাইনারি-তে আগুন লেগেছে। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর এটি তাদের সবচেয়ে দূরপাল্লার সফল হামলাগুলোর একটি।
অন্যদিকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত সেভাস্তোপল অঞ্চলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় হামলার কারণে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে, ফলে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে।
