ফ্রান্স ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা, চোটে ছিটকে গেলেন মরক্কোর তারকা
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মরক্কো বড় ধাক্কা নিয়েই নামছে কোয়ার্টার ফাইনালের মহারণে। শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে চোটের কারণে দলে থাকছেন না দলের অন্যতম ভরসার ফুটবলার ইসমায়েল সাইবারি।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও আলো ছড়াচ্ছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। তবে চার বছর আগে সেমিফাইনালে যাদের কাছে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল, সেই ফ্রান্সের বিপক্ষেই আবারও নকআউট লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আশরাফ হাকিমির দল। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় বোস্টনের স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে মাঠে নামবে দুই দল।
শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে খেলতে নেমে মাত্র ২২ মিনিটেই হ্যামস্ট্রিং চোটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ইসমায়েল সাইবারি। চিকিৎসা শেষে পুরোপুরি সুস্থ হতে না পারায় ফ্রান্সের বিপক্ষে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছেন মরক্কোর প্রধান কোচ মোহামেদ উয়াহবি।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে উয়াহবি বলেন, “সে এখনও প্রস্তুত নয়। তবে এর মানে এই নয় যে তার বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে। আমরা আশা করছি পরের ধাপে উঠতে পারলে তাকে আবারও দলে পাওয়া যাবে।”
চলতি বিশ্বকাপে মরক্কোর আক্রমণভাগের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন সাইবারি। গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এছাড়া শেষ ৩২-এর ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক শেষ শটটিও নিয়েছিলেন এই তারকা, যা মরক্কোকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স। শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত ইউরোপের দলটির বিপক্ষে কোনো বিশেষ কৌশল লুকিয়ে রাখছেন না বলেও জানিয়েছেন উয়াহবি।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো চমক নেই। আমি গোপন কৌশলে বিশ্বাস করি না। যারা আমাদের খেলা বিশ্লেষণ করেছেন, তারা জানেন আমরা কীভাবে খেলতে চাই। বলের দখল ধরে রেখে ধৈর্য নিয়ে সুযোগ তৈরি করাই আমাদের পরিকল্পনা।”
মরক্কো কোচ আরও বলেন, “শুধু উইং দিয়ে নয়, মাঝমাঠ দিয়েও আক্রমণ গড়ে তুলতে হবে। আমরা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছি, বিশ্বের যেকোনো দলকে চাপে ফেলার সামর্থ্য আমাদের রয়েছে। সেই বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামব।”
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স। তবে অতীতের সেই ফলাফল এবার কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন উয়াহবি।
তার ভাষায়, “প্রতিটি ম্যাচের আলাদা গল্প থাকে। ২০২২ সালের সঙ্গে ২০২৬ সালের কোনো তুলনা চলে না। আমাদের দল বদলেছে, ফ্রান্সও আগের চেয়ে ভিন্ন ও আরও শক্তিশালী। দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনই গত কয়েক বছরে দারুণ কাজ করেছে।”
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাকেই অনেক বড় অর্জন বলা হলেও তাতে সন্তুষ্ট নন মরক্কো কোচ। তার লক্ষ্য আরও অনেক বড়।
তিনি বলেন, “টুর্নামেন্ট শেষে আমরা মূল্যায়ন করব কতটা ভালো খেলেছি। এখন কেউ যদি বলে আমরা অনেক বড় সাফল্য পেয়েছি, সেটা শুনতে চাই না। ফ্রান্স অবশ্যই ফেভারিট, কিন্তু জয়ের জন্য আমরা সর্বোচ্চ লড়াই করব। আমাদের কাছে আসল সাফল্য শুধু কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, বিশ্বকাপ জেতা।”
