মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

নবীগঞ্জে চলাচলের রাস্তায় ঘর নির্মাণ, একটি পরিবার গৃহবন্দি

প্রতিবেদক:
নবীগঞ্জে চলাচলের রাস্তায় ঘর নির্মাণ, একটি পরিবার গৃহবন্দি

নবীগঞ্জ পৌরসভার রাজাবাদ গ্রামে স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী শ্রমিকলীগ নেতা’র নেতৃত্বে একদল লাটিয়াল লোকজন বৃহস্পতিবার (৯ই জুলাই) ভোরে পাশের বাড়ির মরহুম আব্দুল মতিন মাষ্টারের চলাচলের রাস্তায় জোরপুর্বক ঘর নির্মাণ করে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করলেও রাস্তার প্রতিবন্ধকতা অপসারনের কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে আব্দুল মোমেন দিলীপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, পৌরসভার রাজাবাদ গ্রামের (অবঃ) প্রাইমারী শিক্ষক আব্দুল মতিন মাষ্টার প্রায় ২৫ বছর ধরে নিজের ভূমিতে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন এবং বাড়ির পুর্ব দিকে একমাত্র রাস্তা নিজস্ব অর্থে মেরামত করে চলাচল করে আসছেন। প্রায় ৪/৫ বছর পুর্বে একই গ্রামের প্রভাবশালী আওয়ামী শ্রমিকলীগের উপজেলা সভাপতি দলীয় প্রভাব কাটিয়ে উক্ত রাস্তা তাদের দাবী করে ভেড়া দেয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে দেড় শতক ভূমি মরহুম আব্দুল মতিন মাষ্টারের ছেলেদের নামে রেজিস্ট্রারী করে দেওয়ার শর্তে বিবাদী মাজহারুল ইসলাম অপু ৩,০০০০০/ (তিন লক্ষ) টাকা চুক্তিতে নগদ অগ্রিম ১,৫০০০০/ ( এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা নেন। পরবতীতে রেজিষ্ট্রারী দেওয়ার সময় বাকী টাকা পরিশোধ করা হবে মর্মে চুক্তি হয়। কিন্তু উক্ত ভূমির এস.এ মালিক হাছন উল্লাগং। ভুল বশতঃ বিবাদী মাজহারুল ইসলাম অপুর পিতা আব্দুল হাসিমের নামে আর.এস রেকর্ড হওয়ায় তারা রেজিষ্ট্রারী দিতে ব্যর্থ হয়। প্রায় ৭/৮ মাস পুর্বে উক্ত রাস্তা মাটি দিয়ে মেরামত করে প্রবাসী আব্দুল মোনায়েম দুলন। এ সময় অপুগংরা কোন প্রকার বাধাঁ নিষেধ করেন নি।

বৃহস্পতিবার (৯ই জুলাই) ভোর ৬টার দিকে শ্রমিকলীগ নেতা মাজহারুল ইসলাম অপু ও তার লন্ডন প্রবাসী ভাই তাজুল ইসলাম নিঠুর নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উক্ত রাস্তার উপর টিনের ছাপটা (ঘর) নির্মাণ করে। এতে ওই পরিবারের লোকজন ঘর থেকে বের হতে না পেরে গৃহবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ওই বাড়ির প্রায় ৪/৫ জন স্কুল পড়–য়া ছেলে-মেয়ে স্কুলে যেতে পারছে না। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংখ্যা করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুহুল আমিন বলেন, অফিসিয়াল কাজে ঢাকায় অবস্থা করছেন। এলাকায় ফিরে বিষয়টি দেখবেন। গৃহবন্দি আব্দুল মোমেন দিলীপ বলেন, ওই জায়গার মালিক হাছন উল্লাগং। কিন্তু অপু আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও রেজিষ্ট্রারী দিতে পারে নি। আজ ভোরে লাটিয়াল বাহিনী নিয়ে আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে জোর পুর্বক ঘর নির্মাণ করেছে। ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না।