মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

চিরবিদায় নিলেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী বনি টাইলার

প্রতিবেদক:
চিরবিদায় নিলেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী বনি টাইলার

‘টোটাল ইক্লিপস অব দ্য হার্ট’খ্যাত কিংবদন্তি ব্রিটিশ গায়িকা বনি টাইলার আর নেই। ৭৫ বছর বয়সে মঙ্গলবার পর্তুগালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিশ্বখ্যাত এই সংগীতশিল্পী।

তার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্যের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, অন্ত্রের জটিলতার কারণে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘদিন কোমায় ছিলেন বনি টাইলার। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

১৯৮০-এর দশকের অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘টোটাল ইক্লিপস অব দ্য হার্ট’-এর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান বনি টাইলার। শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র কণ্ঠের এই শিল্পী ‘হোল্ডিং আউট ফর আ হিরো’ এবং ‘ইটস আ হার্টেক’-এর মতো কালজয়ী গানের জন্য সংগীতপ্রেমীদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে তাকে এমবিই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

জানা গেছে, বনি টাইলারের মৃত্যুর পেছনে মূল কারণ ছিল অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া গুরুতর অন্ত্রের জটিলতা। পর্তুগালের আলগার্ভেতে নিজের বাড়িতে থাকার সময় তিনি তীব্র পেটের ব্যথা অনুভব করেন। পরে মে মাসের শুরুতে তাকে ফারো শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসা পরীক্ষায় তার অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে যাওয়ার পাশাপাশি অন্ত্রে ছিদ্র ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচার করলেও পরবর্তীতে তিনি হৃদযন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত হন। চিকিৎসকেরা তাকে পুনরুজ্জীবিত করার পর তার শরীরে গুরুতর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে কৃত্রিম কোমায় রাখেন। জুনের মাঝামাঝি সময়ে তিনি কোমা থেকে ফিরলেও শারীরিকভাবে খুব দুর্বল ছিলেন এবং আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর অবশেষে জটিলতার কাছে হার মানেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।

১৯৫১ সালের ৮ জুন যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে গেইনর হপকিন্স নামে জন্মগ্রহণ করেন বনি টাইলার। শ্রমজীবী পরিবারে বেড়ে ওঠা এই শিল্পীর ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে স্থানীয় ক্লাবগুলোতে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৬৯ সালে একটি প্রতিভা প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হওয়ার পর পেশাদার সংগীতজীবনে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন।

১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ‘বনি টাইলার’ নাম গ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত ‘লস্ট ইন ফ্রান্স’ গানটি তাকে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে প্রথম বড় সাফল্য এনে দেয়। এরপর ‘ইটস আ হার্টেক’ গানের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।

বনি টাইলারের কর্কশ ও গভীর কণ্ঠ ছিল তার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। ১৯৭৭ সালে স্বরযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেওয়ায় তার কণ্ঠে স্থায়ী পরিবর্তন আসে। তবে সেই পরিবর্তিত কণ্ঠই পরবর্তীতে তার বিশেষ পরিচয় হয়ে ওঠে এবং বিশ্বসংগীতে তাকে এনে দেয় অনন্য মর্যাদা।