মূল লেখায় যান
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ফ্লাইটে আচমকা তীব্র ঝাঁকি, জানা গেল গাঁজা খেয়েছিলেন পাইলট এইমাত্রঅন্যান্য ফ্লাইটে আচমকা তীব্র ঝাঁকি, জানা গেল গাঁজা খেয়েছিলেন পাইলট একটি ৪ তালা বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ, ৫টি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার এইমাত্রঅন্যান্য একটি ৪ তালা বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ, ৫টি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার নরসিংদীর রায়পুরায় যৌথ অভিযান: ১৩৬ হাতবোমা ও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩ এইমাত্রঅন্যান্য নরসিংদীর রায়পুরায় যৌথ অভিযান: ১৩৬ হাতবোমা ও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩ বড় ধরনের ভূমিকম্প মোকাবিলায় ৪৪৫ ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ চিহ্নিত এইমাত্রঅন্যান্য বড় ধরনের ভূমিকম্প মোকাবিলায় ৪৪৫ ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ চিহ্নিত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ‘সিইএসসি ম্যাথমেজিকস ২০২৬’-এর সফল সূচনা এইমাত্রঅন্যান্য জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ‘সিইএসসি ম্যাথমেজিকস ২০২৬’-এর সফল সূচনা শুধুমাত্র দুই বিষয়েই আটকে গেল ৭ লাখ পরীক্ষার্থী এইমাত্রঅন্যান্য শুধুমাত্র দুই বিষয়েই আটকে গেল ৭ লাখ পরীক্ষার্থী ইউক্রেন থেকে পালিয়েছে ৪৪ লাখের বেশি মানুষ এইমাত্রঅন্যান্য ইউক্রেন থেকে পালিয়েছে ৪৪ লাখের বেশি মানুষ তদন্তে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, আহত ৫ নারীসহ গ্রেপ্তার ৭ এইমাত্রঅন্যান্য তদন্তে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, আহত ৫ নারীসহ গ্রেপ্তার ৭
অন্যান্য

কিয়ামতের দিন দাঁড়িপাল্লায় সবচেয়ে ভারী আমল কোনটি?

প্রতিবেদক:
কিয়ামতের দিন দাঁড়িপাল্লায় সবচেয়ে ভারী আমল কোনটি?

মানুষ সাধারণত মনে করে, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে ভারী আমল হবে বেশি বেশি নফল নামাজ, রোজা বা দান-সদকা। নিঃসন্দেহে এসব আমল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন একটি আমলের কথা জানিয়েছেন, যা একজন মুমিনের নেক আমলের পাল্লায় সবচেয়ে বেশি ওজন যোগ করবে। সেই আমল হলো— সুন্দর চরিত্র, উত্তম আখলাক ও ভদ্র আচরণ।

কিয়ামতের দিনের সবচেয়ে ভারী আমল

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—

مَا مِنْ شَيْءٍ أَثْقَلُ فِي مِيزَانِ الْمُؤْمِنِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ حُسْنِ الْخُلُقِ، وَإِنَّ اللَّهَ لَيُبْغِضُ الْفَاحِشَ الْبَذِيءَ

‘কিয়ামতের দিন মুমিনের দাঁড়িপাল্লায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কোনো আমল থাকবে না। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীলভাষী ও কটুভাষী ব্যক্তিকে অপছন্দ করেন।’ (তিরমিজি ২০০২)

উত্তম আখলাক কেন এত মূল্যবান?

উত্তম চরিত্র শুধু মানুষের ভালোবাসা অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম পথ। একজন মানুষের নামাজ, রোজা ও ইবাদতের সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার কথাবার্তা, আচরণ, নম্রতা, ধৈর্য ও মানুষের প্রতি ব্যবহার সুন্দর হয়।

তাই ইসলাম শুধু ইবাদতের পরিমাণ বাড়ানোর শিক্ষা দেয় না; বরং চরিত্র ও আখলাককে সুন্দর করার ওপরও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।

কুরআন কী বলে?

আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় নবী (সা.)-এর চরিত্রের প্রশংসা করে বলেন—

وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٍ

‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’ (সুরা আল-কলম: আয়াত ৪)

এই আয়াত প্রমাণ করে, একজন মুমিনের সর্বোত্তম পরিচয় তার সুন্দর চরিত্র ও উত্তম আচরণ।

উত্তম চরিত্র মানুষকে জান্নাতের কাছাকাছি নিয়ে যায়

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন—

إِنَّ مِنْ أَحَبِّكُمْ إِلَيَّ وَأَقْرَبِكُمْ مِنِّي مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَحَاسِنَكُمْ أَخْلَاقًا

‘তোমাদের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে তারা, যাদের চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।’  (তিরমিজি ২০১৮)

একজন মুসলিম কীভাবে উত্তম চরিত্র গড়ে তুলতে পারেন?

*সর্বদা সত্য কথা বলা।
*নম্র ও ভদ্র ভাষায় কথা বলা।
*রাগ সংযত রাখা।
*ক্ষমাশীল হওয়া।
*কাউকে অপমান বা কষ্ট না দেওয়া।
*গিবত, কটূক্তি ও অশ্লীল ভাষা থেকে বিরত থাকা।
*পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করা।

এসব গুণ একজন মানুষের ইমানকে পরিপূর্ণ করে এবং কিয়ামতের দিন তার নেক আমলের পাল্লাকে ভারী করে তুলবে।

কিয়ামতের দিন মানুষের সম্পদ, পদমর্যাদা কিংবা বাহ্যিক পরিচয় কোনো কাজে আসবে না। তখন মূল্যায়ন হবে ইমান ও নেক আমলের। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন, সেই নেক আমলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভারী হবে উত্তম চরিত্র ও সুন্দর ব্যবহার। তাই ইবাদতের পাশাপাশি আমাদের উচিত কথাবার্তা, আচরণ, নম্রতা, সহনশীলতা ও মানবিক গুণাবলীকে উন্নত করা। কারণ সুন্দর আখলাক শুধু মানুষের হৃদয় জয় করে না, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং কিয়ামতের দিনের সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি হয়ে ওঠে।