মূল লেখায় যান
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ইরান-আমিরাতের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এইমাত্রঅন্যান্য ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ইরান-আমিরাতের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে আলোচনা সভা এইমাত্রঅন্যান্য কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে আলোচনা সভা ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব থেকে অস্কারের দৌড়ে ছয় সিনেমা এইমাত্রঅন্যান্য ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব থেকে অস্কারের দৌড়ে ছয় সিনেমা আ.লীগকে ফেরাতে সরকারের একাংশ ষড়যন্ত্র করছে: পরওয়ার এইমাত্রঅন্যান্য আ.লীগকে ফেরাতে সরকারের একাংশ ষড়যন্ত্র করছে: পরওয়ার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সরকারের এইমাত্রঅন্যান্য ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সরকারের বুড়িচংয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ১১, তিনজনের কারাদণ্ড এইমাত্রঅন্যান্য বুড়িচংয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ১১, তিনজনের কারাদণ্ড সেই ৬৩ বিদেশির সহযোগী মহসিন কোকেন মামলায় গ্রেফতার এইমাত্রঅন্যান্য সেই ৬৩ বিদেশির সহযোগী মহসিন কোকেন মামলায় গ্রেফতার ফ্রান্সে বসেই দেশে ডাকাতচক্র চালাতেন ‘ফ্রান্স নাসির’ এইমাত্রঅন্যান্য ফ্রান্সে বসেই দেশে ডাকাতচক্র চালাতেন ‘ফ্রান্স নাসির’
অন্যান্য

২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সরকারের

প্রতিবেদক:
২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সরকারের

ঋণ ও পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যেই ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, ঋণনির্ভর ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতির পরিবর্তে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থাননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার। একই সঙ্গে স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সাভারের বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

‘কানেক্টিং নলেজ, পলিসি অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর বেটার গভর্ন্যান্স’ শীর্ষক এ বৈঠকে শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের পেশাজীবীরা অংশ নেন।

তিতুমীর বলেন, দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে উৎপাদন ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে হবে। বিদ্যুৎ খাতের সংকটের কারণে জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার পাশাপাশি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েও সরকার কাজ করছে।

রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর সংস্কৃতির সমালোচনা করে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানি খাতসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এ ধরনের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে একদিকে বেকারত্ব বেড়েছে, অন্যদিকে বৈষম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তার মতে, জুলাইয়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বৈষম্যবিরোধী মানুষের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। বৈষম্য কমানো, সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা এবং সমাজের সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি।

তিতুমীর বলেন, শাসকরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়ার ঘটনা দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতার বিষয়টি সামনে এনেছে। শাসনব্যবস্থার সঙ্গে ক্ষমতা, নীতি প্রণয়ন এবং নীতি বাস্তবায়নের বিষয়গুলো সরাসরি যুক্ত।

তবে কোনো প্রতিষ্ঠান দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলেই তার সুফল সমাজের সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশের মতো দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিষ্ঠান বলতে শুধু আইন, বিধি বা সাংগঠনিক কাঠামো বোঝায় না উল্লেখ করে তিতুমীর বলেন, এর সঙ্গে সমাজের রীতি-রেওয়াজ ও মূল্যবোধও জড়িত। তাই আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক—দুই ধরনের প্রতিষ্ঠান নিয়েই গবেষণা প্রয়োজন।

অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের বৈশিষ্ট্য নিয়েও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের গবেষণার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা, সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়নি। অর্থনীতির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও টেকসই উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শর্ত হচ্ছে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান।

তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান কার জন্য কাজ করছে, কে আইন তৈরি করছে, সেই আইনের ফলে কারা লাভবান হচ্ছে এবং পরিবর্তন আনার ক্ষমতা কার হাতে—এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি।

সরকারের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি তাই অর্থনৈতিক সংস্কারের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।