ইরানের প্রস্তাব ট্রাম্পের ‘প্রত্যাখ্যান’, এরপর কী?
ইরানের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সাত দিনের প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে মার্কিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানের প্রস্তাব পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প তা নাকচ করে দেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার নতুন এই রোডম্যাপ প্রকাশ করেছিলেন।
ইরানের প্রস্তাবে কী ছিল
প্রস্তাব অনুযায়ী, সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর কথা বলা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।
এর মধ্যে রয়েছে ইরানের জব্দ করা ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়, ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ বন্ধ করা। পাশাপাশি সাত দিনের সময়কালে লেবাননসহ বিভিন্ন এলাকায় সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছে।
আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত পূরণ করলে চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। সপ্তম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।
কেন প্রস্তাব নাকচ করলেন ট্রাম্প?
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান মার্কিন শর্তগুলো বাস্তবায়ন করবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্পের সংশয় রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়টি ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আগে তেহরানের নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত তারা নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবে না। ফলে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরানের প্রস্তাবের জবাব দিতে ওয়াশিংটন কোনো তাড়াহুড়ো করছে না এবং হরমুজ প্রণালির বিষয়ে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী মনে করছে।
কূটনৈতিক আলোচনা কি চলছে?
হ্যাঁ। তবে তা মূলত পরোক্ষভাবে চলছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে কাতার দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে মধ্যস্থতা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই জানিয়েছে, কূটনীতির পথ এখনও খোলা রয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো এবং নতুন করে সংলাপ শুরুর শর্ত নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এর আগে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা হয়। ওই বৈঠককে ট্রাম্প ‘খুব ভালো’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
এরপর কী হতে পারে?
আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থা চলতে থাকলে আবারও সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে উদ্ধৃত মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে বোমা হামলার অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
তবে একই সময়ে ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ অবসানে একটি সমঝোতা হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি কাতারের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে বলেন, নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের ধাক্কা খেলে এবং কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্প একতরফা পদক্ষেপ নিতে পারেন, যার মধ্যে আবারও যুদ্ধ শুরু করার সম্ভাবনাও থাকতে পারে।
অন্যদিকে, আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো থমাস ওয়ারিক মনে করেন, ইরানের নতুন প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরও আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য এখনও রয়েছে।
