বিশ্ববাজারে আবার স্বর্ণের দামে বড় পতন
মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। এর ফলে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহেও দরপতনের দিকে এগোচ্ছে সুদ বা মুনাফা না দেওয়া মূল্যবান এই ধাতু।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৩৩ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪০ দশমিক ০৬ ডলারে নেমে আসে। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৩.৪ শতাংশ।
এদিকে মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দামও ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬২ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হ্যান তান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা আপাতত অতিরিক্ত আশাবাদী হতে চাইছেন না। কারণ, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ এখনো তুলনামূলক কঠোর আর্থিক নীতি বজায় রেখেছে।
তিনি বলেন, আগামী মাসগুলোতে স্বর্ণের দামের গতিপথ অনেকটাই ফেডের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শ্রমবাজারে সম্ভাব্য দুর্বলতা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন বাজারের নজর।
গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে শুরু হওয়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের পর থেকে স্বর্ণের দাম ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। সংঘাতের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং দীর্ঘ সময় সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কাও স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি করছে।
অন্যদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৬৯২ দশমিক ৯০ ডলার। আর প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৬৫ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমেছে। তিনটি ধাতুই সাপ্তাহিক দরপতনের মুখে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের গহনার দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
