মূল লেখায় যান
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৬:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল এবং ইরানেরই থাকবে এইমাত্রঅন্যান্য হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল এবং ইরানেরই থাকবে মির্জা ফখরুলের জন্য সংসদ সদস্যদের কাছে ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী এইমাত্রঅন্যান্য মির্জা ফখরুলের জন্য সংসদ সদস্যদের কাছে ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী আবারও বন্ধ এক্সিলারেটের এলএনজি সরবরাহ, সংকটের শঙ্কা এইমাত্রঅন্যান্য আবারও বন্ধ এক্সিলারেটের এলএনজি সরবরাহ, সংকটের শঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ ঘোষণা এইমাত্রঅন্যান্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ ঘোষণা সরকারি প্রকল্পের লোগো ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগ, প্রশিক্ষণ শেষেও নেই সনদ এইমাত্রঅন্যান্য সরকারি প্রকল্পের লোগো ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগ, প্রশিক্ষণ শেষেও নেই সনদ ভাঙ্গা গোলচত্বরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু এইমাত্রঅন্যান্য ভাঙ্গা গোলচত্বরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু সহপাঠীর মায়ের চিকিৎসায় শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা, পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী এইমাত্রঅন্যান্য সহপাঠীর মায়ের চিকিৎসায় শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা, পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী যশোরে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা লোপাট, চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ২ এইমাত্রঅন্যান্য যশোরে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা লোপাট, চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ২
অন্যান্য

হরমুজ পাড়ি দিলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’

প্রতিবেদক:
হরমুজ পাড়ি দিলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ চার মাস ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ অবশেষে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৩টার দিকে জাহাজটি সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে। বর্তমানে জ্বালানি বা বাংকারিং নেওয়ার জন্য জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বিএসসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর জাহাজটি এখন পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখবে। জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।

বিএসসি’র তথ্য অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি হরমুজ হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। পরে এটি কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক পরাশক্তি আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। এর পরপরই হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

গত ১১ মার্চ জাবেল আলীতে পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকি বিবেচনায় বিএসসি জাহাজটিকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যাওয়ার জন্য সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় জাহাজটি রাস আল খায়ের বন্দরেই আটকে পড়ে।

পরবর্তীতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলে গত ৮ এপ্রিল জাহাজটি কেপটাউনের উদ্দেশ্যে রাস আল খায়ের ত্যাগ করলেও ১০ এপ্রিল হরমুজ পাড়ি দিতে গিয়ে পুনরায় ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে। নিরুপায় হয়ে জাহাজটি ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে আশ্রয় নেয়। সর্বশেষ ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘ ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় জাহাজটি আজ রাতে হরমুজ প্রণালী পার হতে সমর্থ হয়।

২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজটিতে কর্মরত ৩১ জন ক্রু-এর সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, আমাদের নাবিকদের সীমাহীন সাহসিকতা, সুনিপুণ নৌ-কৌশল এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনায় ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ এক চরম সংকটময় পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এই স্পর্শকাতর যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়ে তারা যে অসীম ধৈর্য দেখিয়েছেন, তা বিশ্ব মেরিটাইম খাতে বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত।

কমডোর মালেক জানান, দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পুরো সংকটকালীন সময়ে জাহাজের ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুদের মনোবল সমুন্নত রাখতে বিএসসির পক্ষ থেকে সব ধরণের আপদকালীন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। জাহাজে সুপেয় পানি, খাবার, রসদ ও জ্বালানি তেলের মতো প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সরবরাহে কখনোই কোনো ঘাটতি হতে দেওয়া হয়নি। 
পাশাপাশি নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে স্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধার অতিরিক্ত হিসেবে দৈনিক ৫ মার্কিন ডলার বিশেষ মিল অ্যালাউন্স, ঈদের বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য বিশেষ ‘ওয়ার ওয়েজ’ (War Wage) প্রদান করা হয়েছে।