১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের নিজ ফ্ল্যাটে রহস্যজনকভাবে মারা যান নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ। তার মৃত্যু আত্মহত্যা বলে পিবিআই দাবি করলেও, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে ২০২১ সালে নারাজি দিয়েছিলেন সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী। শেষে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ছেলে হত্যার বিচার চাওয়া সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী যেন এবার একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন, ন্যায়বিচার পেতে যাচ্ছেন তিনি। নীলা চৌধুরী বলেন, খুনের চিহ্ন আর আত্মহত্যার চিহ্ন আলাদা। সেটা তার শরীরেও ছিল। এটি খুন, বোঝাই যাচ্ছিল। প্রমাণও ছিল। সামিরার ঘনিষ্ঠরা পরে তো বলেই দিল— কীভাবে খুন করেছে।
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে নায়কের সাবেক স্ত্রী সামিরা হককে। অন্য ১০ আসামি হলেন প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, নায়কের সাবেক শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ।
এদিকে অমর নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও সেই দিনটি স্মৃতিতে অম্লান ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপা খন্দকারের। কারণ সেই দিনের এক মর্মস্পর্শী স্মৃতি শেয়ার করে নিলেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে দীপা খন্দকার বলেন, সালমান শাহের মৃত্যুর দিন তিনি ছিলেন ঠিক তার পাশের বাসাতেই—রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে। তিনি বলেন, সালমান শাহ যেদিন মারা যান, আমি তার পাশের বাসাতেই ছিলাম। মানে তখন ইস্কাটনেই থাকতাম।
অভিনেত্রী বলেন, আপনারা অনেকেই জানেন, আমি ১৯৯৪ সাল থেকে সালমান শাহের বাসার পাশেই ইস্কাটন গার্ডেনে থাকতাম। নায়কের মৃত্যুর খবর যখন সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে, তখনই প্রথমবার জানতে পারি—আমার পাশের বাসায় ছিলেন এমন একজন সুপার হিরো।
উল্লেখ্য, অভিনেত্রী দীপা খন্দকার ১৯৯৮ সালে একটি চায়ের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিনোদন জগতে পা রাখেন। এরপর থেকে নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি। তবে সালমান শাহের মৃত্যুদিনের সেই ভয়াবহ সকাল এখনো যেন স্পষ্ট তার চোখে ভাসে।



