মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ১:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
২২ দিনেই দেশে এলো ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি রেমিট্যান্স এইমাত্রঅন্যান্য ২২ দিনেই দেশে এলো ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি রেমিট্যান্স ওমরাহ পালনের পথে সৌদিতে দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু এইমাত্রঅন্যান্য ওমরাহ পালনের পথে সৌদিতে দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু আরেক দেশে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এইমাত্রঅন্যান্য আরেক দেশে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র শেরপুরে জুলাই শহীদ পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করলেন নাহিদ ইসলাম এইমাত্রঅন্যান্য শেরপুরে জুলাই শহীদ পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করলেন নাহিদ ইসলাম কেবল শিক্ষাই জেলে পল্লীর ভাগ্য বদলাতে পারে: ডিসি জাহিদুল এইমাত্রঅন্যান্য কেবল শিক্ষাই জেলে পল্লীর ভাগ্য বদলাতে পারে: ডিসি জাহিদুল কালো পলিথিনের আড়ালে আটজন মানুষের বেঁচে থাকার গল্প এইমাত্রঅন্যান্য কালো পলিথিনের আড়ালে আটজন মানুষের বেঁচে থাকার গল্প টানা বৃষ্টিতে বরিশালের ৪১ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত, তলিয়েছে আমন বীজতলা এইমাত্রঅন্যান্য টানা বৃষ্টিতে বরিশালের ৪১ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত, তলিয়েছে আমন বীজতলা গণিত অলিম্পিয়াডে নতুন ইতিহাস, ১০০ তে ১০০ পেল এআই এইমাত্রঅন্যান্য গণিত অলিম্পিয়াডে নতুন ইতিহাস, ১০০ তে ১০০ পেল এআই
অন্যান্য

টানা বৃষ্টিতে বরিশালের ৪১ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত, তলিয়েছে আমন বীজতলা

প্রতিবেদক:
টানা বৃষ্টিতে বরিশালের ৪১ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত, তলিয়েছে আমন বীজতলা

অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বরিশাল অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অনেক কৃষক দিশেহারা হয়ে পরেছেন।

তাদের অনেকেই বলছেন, এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা কঠিন হবে। এ পর্যন্ত অঞ্চলের ৪১ হাজার ২১০ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পরেছেন। যারমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন বীজতলা। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন শাকসবজিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টিপাত এবং নদ-নদীর পানি ফসলি জমিতে প্রবেশ করায় সবচেয়ে বেশি বরিশাল বিভাগের বরগুনায় ৬ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। তবে আংশিক ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি পিরোজপুরে, যেখানে ১ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।ওই জেলায় সর্বোচ্চ ২৫৭ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে।

আর আর্থিক ক্ষতির দিক থেকে বরিশাল অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ভোলা জেলায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পিরোজপুরে ২৩ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন আমন বীজতলা এবং ১ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৬৪৩ মেট্রিক টন, পটুয়াখালীতে ২৪৪ মেট্রিক টন, বরগুনায় ৪৯৮ মেট্রিক টন এবং ভোলায় ১ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

সবমিলিয়ে বরিশাল অঞ্চলে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টনে। অন্যদিকে আর্থিক হিসেবে বরিশাল অঞ্চলে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৯ কোটি টাকা। এরমধ্যে পিরোজপুরে ৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ঝালকাঠিতে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৪ হাজার টাকা, পটুয়াখালীতে ১ কোটি ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯০০ টাকা, বরগুনায় ৮৪ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ভোলায় প্রায় ৯ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার খাসেরহাট এলাকার কৃষক নারায়ণ চন্দ্র বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে আমার জমির আমন বীজতলা এখন পানির নিচে। মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, এক একর জমিতে মরিচ চাষ করেছিলাম। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে গিয়ে পুরো মরিচক্ষেত তলিয়ে গেছে।

বরিশাল অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, অতিবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতির কারণে বরিশাল অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পিরোজপুরের ২৫ হাজার ৮০০ কৃষক। এছাড়া ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৭১৫ জন, পটুয়াখালীতে ৮ হাজার ৭৭০ জন, বরগুনায় ১ হাজার ১২৫ জন এবং ভোলায় ৩ হাজার ৮০০ জন কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টিপাত এখনও অব্যাহত রয়েছে। নদ-নদীর পানি প্রতিদিনই বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল ও ফসলি জমিতে প্রবেশ করছে। ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এ অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক আমন বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির চাষ করেছেন। এভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও কয়েক কোটি টাকা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।