গণিত অলিম্পিয়াডে নতুন ইতিহাস, ১০০ তে ১০০ পেল এআই
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবার ছুঁয়ে ফেলল গণিতের অন্যতম কঠিন মঞ্চ। বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ গণিত প্রতিযোগিতা ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথমেটিকাল অলিম্পিয়াড (IMO)-এ প্রথমবারের মতো একটি এআই মডেল শতভাগ নম্বর অর্জন করেছে। এতদিন এই কৃতিত্ব ছিল কেবল হাতে গোনা কয়েকজন অসাধারণ মেধাবী মানব প্রতিযোগীর দখলে।
চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে এবং শিয়াওহংশু (Xiaohongshu) দাবি করেছে, তাদের তৈরি এআই মডেল চলতি বছরের আইএমওতে মানব প্রতিযোগীদের জন্য নির্ধারিত সব গাণিতিক সমস্যার সঠিক সমাধান করে পূর্ণ নম্বর পেয়েছে। এআই গবেষণার ক্ষেত্রে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিয়াওহংশুর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের ‘Dots-Note 3.0’ নামের বৃহৎ ভাষা মডেল (LLM) আইএমওর আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কোনো ধরনের মানবীয় সহায়তা ছাড়াই সব প্রশ্নের সমাধান করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই প্রথম কোনো এলএলএম শতভাগ নম্বর অর্জনের সক্ষমতা দেখিয়েছে।
অন্যদিকে হুয়াওয়ে জানিয়েছে, তাদের ‘Celia’ এআই সিস্টেমও জটিল গাণিতিক সমস্যাগুলোর সমন্বিত ও নির্ভুল সমাধান দিতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, উন্নত যুক্তি বিশ্লেষণ ও ধাপে ধাপে সমস্যা সমাধানের দক্ষতার কারণেই এ সাফল্য এসেছে।
এ বছর চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত আইএমওতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৬৬৬ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে মাত্র সাতজন মানব প্রতিযোগী সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে পূর্ণ নম্বর অর্জন করেন। একই মানদণ্ডে এআইয়ের শতভাগ নম্বর পাওয়া প্রযুক্তি জগতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালে গুগল ও ওপেনএআই-এর উন্নত এআই মডেল আইএমওতে স্বর্ণপদক-সমমানের স্কোর অর্জন করলেও পূর্ণ নম্বর পেতে পারেনি। এক বছরের ব্যবধানে সেই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে এআই নতুন এক রেকর্ড গড়ল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সাফল্য শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গাণিতিক দক্ষতারই প্রমাণ নয়; বরং ভবিষ্যতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রকৌশল, অ্যালগরিদম উন্নয়ন এবং জটিল সমস্যা সমাধানে এআইয়ের আরও বিস্তৃত ব্যবহারের সম্ভাবনাও তুলে ধরছে। তবে একই সঙ্গে তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অর্জিত সাফল্য বাস্তব জীবনের সব ধরনের সমস্যা সমাধানের সক্ষমতার সমার্থক নয়।
সূত্র: এএফপি
