১১৮ জাতের নতুন ধানের বীজ সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
১১৮ জাতের নতুন ধানের বীজ সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে ৩০ টন বীজ বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানি এবং মাছ বাজারজাতকরণের জন্য একটি ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
শনিবার (১ আগস্ট) কুমিল্লা সার্কিট হাউজে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অসময়ে বৃষ্টিপাত, বন্যা ও খরার মতো দুর্যোগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন উদ্ভাবিত ১১৮ জাতের ধানের বীজ কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে ৩০ টন বীজ বিতরণ করা হবে। এসব জাতের ধান প্রতিকূল আবহাওয়াতেও সহজে অঙ্কুরোদগম করতে সক্ষম হবে। ফলে আকস্মিক বন্যার কারণে ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি কমবে এবং কৃষকরা আরও লাভবান হবেন।
তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ছে। এ কারণে লবণাক্ততা সহনশীল নতুন জাতের ধানের বীজ উদ্ভাবনে সরকার কাজ করছে। এসব জাতের ধান লবণাক্ত পরিবেশেও ভালো ফলন দেবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৎস্য উৎপাদনকারী জেলা কুমিল্লার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এ ছাড়া মাছ বাজারজাতকরণকে আধুনিক ও কার্যকর করতে একটি স্থায়ী মাছের বাজার বা ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মাছ চাষিদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাছের রেণু সরবরাহের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। আগামী বছরের মধ্যেই খাল খনন কর্মসূচির শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির ধারণক্ষমতা বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারিত হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকায় গবাদিপশুর জন্য সরকারি উদ্যোগে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ রোজি আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুর রহমান মজুমদারসহ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর এবং সংস্থার কর্মকর্তারা।
