ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে নতুন হামলার নির্দেশ ট্রাম্পের
ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই হামলা কয়েক দিন ধরে চলতে পারে এবং চলতি সপ্তাহান্তেই শুরু হতে পারে।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই হামলায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তবে এতে ইসরায়েল সরাসরি অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব। একসময় তারা বলবে, আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।” ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কিছুটা।”
পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় জেরুজালেমসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অঞ্চলটিতে ভ্রমণ না করার এবং যারা অবস্থান করছেন, তাদের দ্রুত চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বা পরিস্থিতি অনুযায়ী এলাকা ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে।
দূতাবাসগুলোর সতর্কবার্তায় বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে এবং আগে লক্ষ্যবস্তু না হওয়া এলাকাতেও আক্রমণ বিস্তৃত করেছে। ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
এদিকে, ইরানের সামরিক কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা করলে আঞ্চলিক দেশগুলোও সংঘাতের শিকার হবে। তার ভাষায়, “যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার ঢাল হিসেবে কাজ করবে, সে যুদ্ধের আগুনে গ্রাসিত হবে।”
সম্ভাব্য হামলায় ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। সিএনএন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের সরাসরি অংশ নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই। অন্যদিকে সিবিএস নিউজ দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় আসন্ন হামলার পরিকল্পনা করছে। এবিসি নিউজ বলেছে, বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, তবে ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়।
এর আগে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, দুই নেতা মূলত ইরানসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা করেছেন।
এদিকে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ইউরোপে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ পেন্টাগনকে সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত একটি নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার না পেলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সহায়তা সীমিত করতে হতে পারে।
অন্যদিকে শনিবার কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এসব ড্রোন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেছে কুয়েত। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
