সংবাদ প্রকাশের পর কানাইলালের জন্মভিটায় ডিসি, মিউজিয়ামের আশ্বাস
উপমহাদেশের কিংবদন্তি দোতারা বাদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত লোকশিল্পী কানাইলাল শীলের অবহেলিত জন্মভিটা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে প্রশাসন।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলাম শিল্পীর জন্মভিটা পরিদর্শন করে স্থানটি সংরক্ষণ এবং সেখানে একটি আধুনিক মিউজিয়ামসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করপুর গ্রামে অবস্থিত কানাইলাল শীলের বাড়ি পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিরু আলী ফকির, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সংস্কৃতিকর্মী ও এলাকাবাসী।
পরিদর্শনের সময় শিল্পীর বাড়িতে সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করতে উন্নত সড়ক নির্মাণ, একটি সংগীত শিক্ষালয়, স্মৃতিস্তম্ভ এবং তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন স্মারক সংরক্ষণের জন্য আধুনিক মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “কানাইলাল শীল শুধু ফরিদপুর বা বাংলাদেশের গর্ব নন, তিনি সমগ্র উপমহাদেশের লোকসংগীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত এই স্থান সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। কীভাবে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানে রূপ দেওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী কানাইলাল শীলের জন্মভিটা সংরক্ষণ, সংগীত শিক্ষালয়, স্মৃতিস্তম্ভ ও মিউজিয়াম নির্মাণসহ সম্ভাব্য সব বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় স্থানীয়দের মতামতও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নগরকান্দার দোতারা ও বাঁশিবাদক নূহ আমিনুর রহমান (মিন্টু) বলেন, “কানাই লাল শীলের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের দাবি আমরা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছি। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের দ্রুত সাড়া দেওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিস্থান হিসেবেই নয়, বরং লোকসংগীত গবেষণা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কানাইলাল শীলের অবহেলিত জন্মভিটা, জরাজীর্ণ স্মৃতিফলক, অরক্ষিত স্মারক এবং পরিবারের দীর্ঘদিনের হতাশার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ঘোষণার মধ্যেই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই কিংবদন্তি শিল্পীর স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত হবে।
