মূল লেখায় যান
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
এনসিপির বহিষ্কৃত নেতা  ৩ দিনের রিমান্ডে এইমাত্রঅন্যান্য এনসিপির বহিষ্কৃত নেতা  ৩ দিনের রিমান্ডে হরমুজ প্রণালিতে ‘১০০% নিয়ন্ত্রণ’ মার্কিন নৌবাহিনীর: ট্রাম্প এইমাত্রঅন্যান্য হরমুজ প্রণালিতে ‘১০০% নিয়ন্ত্রণ’ মার্কিন নৌবাহিনীর: ট্রাম্প ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ২৭ আগস্ট  এইমাত্রঅন্যান্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ২৭ আগস্ট  রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে কি হবে জানালেন চিফ হুইপ এইমাত্রঅন্যান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে কি হবে জানালেন চিফ হুইপ চট্টগ্রামে আবাসিক ভবনে গুলি: চাঁদা নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? এইমাত্রঅন্যান্য চট্টগ্রামে আবাসিক ভবনে গুলি: চাঁদা নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ডিএএডির নন-প্রফিট ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে খুবি'র জুহি এইমাত্রঅন্যান্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ডিএএডির নন-প্রফিট ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে খুবি'র জুহি ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে গুজবের প্রতিবাদে নাগরপুরে সংবাদ সম্মেলন এইমাত্রঅন্যান্য ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে গুজবের প্রতিবাদে নাগরপুরে সংবাদ সম্মেলন ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালে দালালবিরোধী অভিযানে দুই নারীর কারাদণ্ড এইমাত্রঅন্যান্য ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালে দালালবিরোধী অভিযানে দুই নারীর কারাদণ্ড
অন্যান্য

আফিয়া: দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যাণের এক অনন্য প্রার্থনা

প্রতিবেদক:
আফিয়া: দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যাণের এক অনন্য প্রার্থনা

‘আফিয়া’ একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। এর মধ্যে রয়েছে সুস্থতা, নিরাপত্তা, পাপ থেকে মুক্তি এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যাণের প্রার্থনা। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে আফিয়া প্রার্থনা করো। কারণ আফিয়ার চেয়ে উত্তম কিছু কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (সুনান তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৪)

দোয়াটি হলো—

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফিয়া।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে আফিয়া (কল্যাণ) প্রার্থনা করি।’

ছোট্ট এই দোয়াটির মধ্যে নিহিত রয়েছে অফুরন্ত কল্যাণের আবেদন। ‘আফিয়া’ শুধু শারীরিক সুস্থতাকেই বোঝায় না; বরং জীবনের নানা বিপদ, অশান্তি ও অকল্যাণ থেকে নিরাপদ থাকার আকাঙ্ক্ষাও এর অন্তর্ভুক্ত।

মাওলানা আশরাফ আলী থানভি তাঁর ‘মুনাজাতে মকবুল’ গ্রন্থে ‘আফিয়া’র বিস্তৃত তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘আফিয়া’র মধ্যে দুনিয়ার ফিতনা, রোগব্যাধি, পাপাচার এবং আখিরাতের শাস্তি থেকে মুক্তির প্রার্থনা অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ এর মাধ্যমে মানুষ শারীরিক সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি এবং আধ্যাত্মিক পবিত্রতা—সবকিছুরই আবেদন করে। (মুনাজাতে মকবুল, পৃষ্ঠা ১৫৬, দারুল ইশাআত, ২০০৫)

তাই প্রতিদিনের জীবনে এই ছোট অথচ অর্থবহ দোয়াটি বেশি বেশি পড়া যেতে পারে। আল্লাহর কাছে ‘আফিয়া’ চাওয়া মানে দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক নিরাপত্তা, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা।

‘আফিয়া’ শব্দের ব্যাপক তাৎপর্য

রোগমুক্তি ও সুস্বাস্থ্য: শারীরিক সুস্থতা ও সবলতা বজায় রাখা।

নিরাপত্তা ও শান্তি: সকল প্রকার বিপদ-আপদ, বালা-মুসিবত ও ভয়-ভীতি থেকে সুরক্ষা।

দীন ও দুনিয়ার কল্যাণ: ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনের যাবতীয় সংকট ও ফিতনা থেকে মুক্তি।

মানুষের কাছে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহর কাছে সব সময় দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা প্রার্থনা করা মুমিনের কর্তব্য। তাই রাসুল (সা.) সকাল ও সন্ধ্যা নিয়মিত একটি দোয়া পড়তেন।

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَاىَ وَأَهْلِي وَمَالِي اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي وَاحْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَىَّ وَمِنْ خَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِي وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي

‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফি দ্বিনি ওয়া দুনিয়ায়া ওয়া আহলি ওয়া মালি। আল্লাহুম্মাসতুর আওরতি ওয়া আমিন রওআতি। আল্লাহুম্মাহফাজনি মিন বাইনি ইয়াদাইয়া ওয়া মিন খলফি ওয়া মিন আইনি ওয়া মিন শিমালি ওয়া মিন ফাওকি। ওয়া আউজুবিকা বিআজমাতিকা আন উগতালা মিন তাহতি।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা ও সুস্থতা চাই। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে দ্বিন, দুনিয়া, পরিবার-পরিজন ও সম্পদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ, আমার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখুন এবং আমার ভয়-ভীতি থেকে নিরাপদ রাখুন। হে আল্লাহ, আমার ডান-বাম, সামনে-পেছনে ও ওপর-নিচের সব ধরনের ক্ষতি থেকে আমাকে রক্ষা করুন।’ 

হাদিস : আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) সকালে ও সন্ধ্যায় উল্লিখিত দোয়াটি কখনো পড়া ছাড়তেন না। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৭৪; ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৮৭১)