মূল লেখায় যান
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানের শপথ এইমাত্রঅন্যান্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানের শপথ মা-বাবা ভুল পথে চললে সন্তানের করণীয় এইমাত্রঅন্যান্য মা-বাবা ভুল পথে চললে সন্তানের করণীয় মালয়েশিয়ায় ‘ফ্লাইং ডক্টর’ সেবার হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, কি ঘটে ছিল? এইমাত্রঅন্যান্য মালয়েশিয়ায় ‘ফ্লাইং ডক্টর’ সেবার হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, কি ঘটে ছিল? সরকারী নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ এইমাত্রঅন্যান্য সরকারী নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ ইরানকে সাহায্য করায় ৩৬ প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এইমাত্রঅন্যান্য ইরানকে সাহায্য করায় ৩৬ প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিশুর বারবার পেটের সমস্যা, বমি? কোন ৩ পানীয় দিতে পারেন এইমাত্রঅন্যান্য শিশুর বারবার পেটের সমস্যা, বমি? কোন ৩ পানীয় দিতে পারেন তারেক রহমানের যোগদান নিয়ে যে তথ্য দিলো ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এইমাত্রঅন্যান্য তারেক রহমানের যোগদান নিয়ে যে তথ্য দিলো ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের ১২ উপজেলায় নতুন ইউএনও নিয়োগ দিল সরকার এইমাত্রঅন্যান্য দেশের ১২ উপজেলায় নতুন ইউএনও নিয়োগ দিল সরকার
অন্যান্য

জনকল্যাণে বিদ্যুৎ স্টেশনে ৩৮ শতাংশ জমি দান করলেন মো. আতাউর রহমান

প্রতিবেদক:
জনকল্যাণে বিদ্যুৎ স্টেশনে ৩৮ শতাংশ জমি দান করলেন মো. আতাউর রহমান

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের হাসামদিয়া গ্রামে বিদ্যুৎ স্টেশন নির্মাণের জন্য নিজের মালিকানাধীন ৩৮ শতাংশ জমি দান করেছেন পারভেক্ট গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতাউর রহমান। জনস্বার্থে তাঁর এই উদ্যোগকে ইতিবাচক ও মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

মো. আতাউর রহমান সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের কিত্তা গ্রামের হাজী আব্দুর রহমানের ছেলে। এলাকার দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করে তিনি বিদ্যুৎ স্টেশন নির্মাণের জন্য জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দাদপুর ইউনিয়নের হাসামদিয়া, কোন্দারদিয়া, নাগদী, আমড়দী, নতিবদিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা রয়েছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ভোল্টেজের ওঠানামার কারণে কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও ক্ষুদ্র শিল্পে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে হাসামদিয়া গ্রামে বিদ্যুৎ স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সম্পদ বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমির একটি অংশ হিসেবে আতাউর রহমান তাঁর নিজস্ব ৩৮ শতাংশ জমি দান করেছেন।

বিভাগদী শহীদস্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ স্টেশনটি চালু হলে এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়বে। এর সুফল কৃষি, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, “নিজের জমি দান করে আতাউর রহমান যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। তাঁর এই উদ্যোগ অন্যদেরও এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ স্টেশনটি চালু হলে হাসামদিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে কৃষি উৎপাদন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্থানীয় শিল্পের বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত দুর্ভোগও কমে আসবে বলে আশা করছেন তারা।

এলাকাবাসী দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে বিদ্যুৎ স্টেশনটি চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ৩৮ শতাংশ জমি দানের মাধ্যমে আতাউর রহমান শুধু একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করেননি, বরং নিজ এলাকার মানুষের কল্যাণে ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যবহারের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

নিজের উদ্যোগের বিষয়ে মো. আতাউর রহমান বলেন, “এলাকাবাসীর কথা বিবেচনা করে এবং এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে বিদ্যুৎ স্টেশন নির্মাণের জন্য ৩৮ শতাংশ জমি দান করেছি। স্টেশনটি চালু হলে এলাকার বিদ্যুৎ সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে আশা করছি।” তিনি আরও বলেন, “নিজ এলাকার মানুষের জন্য কিছু করতে পারা আমার জন্য আনন্দের। এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে ভবিষ্যতেও সাধ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চাই।”

আতাউর রহমানের জমি দানের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান নিয়ে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে জনস্বার্থে ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এগিয়ে আসার একটি ইতিবাচক বার্তাও পাওয়া যাচ্ছে।