অন্ধত্বের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের পাশে তরুণরা, বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা
অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে না পারা এবং অন্ধত্বের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে তরুণরা। আন্তর্জাতিক যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে পটুয়াখালীতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, চিকিৎসা, ওষুধ ও চশমা বিতরণের পাশাপাশি ছানি রোগীদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য বাছাই করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সদর উপজেলার হেতালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ বিশেষ চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে এবং পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (PDO) আয়োজিত ও সমাজসেবক এডভোকেট মোঃ আঃ জলিলের সহযোগিতায় কর্মসূচিতে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, বরিশাল। ক্যাম্পে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। যাদের চোখে ছানি শনাক্ত হয়েছে, তাদের পরবর্তী সময়ে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য বাছাই করা হয়।
চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার নাজমুস সাকিব। তিনি রোগীদের চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল জলিল। এ সময় হেতালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শবনম মুস্তারি পিরু, পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রিফাত, ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্যাম্প অর্গানাইজার মিজানুর রহমানসহ আয়োজক সংগঠনের সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের একটি বড় অংশ অর্থের অভাবে সময়মতো চোখের চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিশেষ করে ছানি রোগীরা দীর্ঘদিন চিকিৎসার বাইরে থাকলে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই মানুষের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া এবং ছানি রোগীদের প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের আওতায় আনাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, তরুণদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্ধত্ব প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। আন্তর্জাতিক যুব দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে তরুণদের এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের দৃষ্টিশক্তি রক্ষার পাশাপাশি সমাজে তরুণদের জনকল্যাণমূলক ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।
