মূল লেখায় যান
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

ইরানে নতুন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, ৪ মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা হামলা

প্রতিবেদক:
ইরানে নতুন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, ৪ মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা হামলা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা হামলার পর পাল্টা জবাব দিতে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ও জর্ডানে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি এবং একটি মার্কিন মেরিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘ভারী’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরান। 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তারা এ হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি ড্রোন হামলা মোকাবিলা করছে। বাহরাইনও জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘ভুলে যাওয়ার মতো নয়—এমন শিক্ষা’ প্রস্তুত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরুর পর এটিই তাঁর প্রথম বার্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে তাদের বাহিনী নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করার পর এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আসালুয়েহ, জিরোফট, বান্দার আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক ও লাভানসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের সময় একটি বাড়িতে হামলা হয়। এতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি।

নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।