মূল লেখায় যান
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

বগুড়ার শেরপুরে কোটি টাকা হাতিয়ে উধাও কথিত সমিতি, হাতাহাতিতে আহত ৫

প্রতিবেদক:
বগুড়ার শেরপুরে কোটি টাকা হাতিয়ে উধাও কথিত সমিতি, হাতাহাতিতে আহত ৫

বেসরকারি সংস্থা বা সমিতির নামে অধিক লাভের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি চম্পট দিয়েছে ‘রিলিজ ঋণ ও সঞ্চয় প্রকল্প’ নামের এক কথিত সমিতি। সঞ্চয়ের টাকা হারিয়ে দিশেহারা ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সমিতির সংশ্লিষ্টদের বাড়িতে চড়াও হলে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের দুবলগাড়ি বণিকপাড়া এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুবলগাড়ি বণিকপাড়া এলাকার বাদশা সরদারের ছেলে শাহ আলম সরদার ‘রিলিজ ঋণ ও সঞ্চয় প্রকল্প’ নামে একটি কথিত সমিতি চালু করেন। নামমাত্র এই সমিতির আড়ালে সাধারণ মানুষকে চড়া সুদে ঋণ দেওয়া এবং সঞ্চয়ের ওপর মোটা অঙ্কের মুনাফা দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। তাঁর এই চটকদার প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়ে এলাকার নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত বহু পরিবার কষ্টার্জিত জমানো টাকা ওই সমিতিতে আমানত হিসেবে জমা রাখেন। সব মিলিয়ে জমানো টাকার পরিমাণ প্রায় কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে। সম্প্রতি সঞ্চয়কারীদের লভ্যাংশ বা মূলধন ফেরত না দিয়ে টালবাহানা শুরু করেন শাহ আলম সরদার ও তাঁর সহযোগীরা। একপর্যায়ে উধাও হয়ে যায় কথিত ওই সমিতির সব কার্যক্রম।

শুক্রবার দুপুরে প্রতারণার শিকার ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা পাওনা টাকার দাবিতে শাহ আলম সরদারের বাড়িতে চড়াও হন। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষ উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক সিয়াম হাসান ফজলী বেগম, চায়না বেগম, শেফলী বেগম,আরজিনা, লাকি খাতুনদের অভিযোগ, নিজেদের শেষ সম্বলটুকু বিশ্বাস করে ওই সমিতিতে জমা দিয়েছিলেন তারা। এখন টাকা তো দূরে থাক, উল্টো কথা বলতে গেলে হামলার শিকার হতে হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শাহ আলম সরদারের যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে তার বাবা বাদশা সরদার বলেন, টাকা দেওয়ার জন্য কথা চলছিল হটাৎ বাড়িতে ও আমাদের উপর হামলা করে। শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, জালিয়াতি ও মারামারির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা