পানি খাওয়ানোর কথা বলে ঘরে ডেকে নেওয়া হয় ৬ বছরের মাহিদাকে, পরে মিলল নিথর দেহ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। এ ঘটনায় জাহিদুল (১৭) নামে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম মাহিদা ইসলাম (৬)। সে ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মোজাম্মেল মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জুমার নামাজের পর পানি খাওয়ানোর কথা বলে মাহিদাকে নিজের ঘরে নিয়ে যান জাহিদুল। এরপর সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটি গুরুতর আহত ও অচেতন হয়ে পড়ে।
মাহিদার মা মনিরা বেগম জানান, মেয়েকে ঘরে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে জাহিদুলের ঘরের সামনে মাহিদার জুতা দেখতে পান তিনি। দরজা খুলতে বললে জাহিদুল দরজা খুলে দেন। ঘরে প্রবেশ করে মাহিদাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে স্বজনরা মাহিদাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনির হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহিদুলকে আটক করে। নিহতের পরিবারের দাবি, আটক জাহিদুল সম্পর্কে শিশুটির চাচা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম জানান, ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
