আশুলিয়ায় ট্রিপল মার্ডারের আসামির বিরুদ্ধে আগেও ২ হত্যা মামলা
একটি নয়, একের পর এক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে নাম উঠে এসেছে শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়ার আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয়ের। স্বামী-স্ত্রী ও তাদের নবজাতক সন্তান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে গিয়ে পিবিআইয়ের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এর আগেও পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের নবজাতক সন্তান হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ (পিপিএম-সেবা)।
পিবিআই সূত্র জানায়, আশুলিয়ার জামগড়ায় স্বামী, স্ত্রী ও তাদের নবজাতক সন্তান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয়কে গত ৯ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
তবে বর্তমান মামলার তদন্ত করতে গিয়ে হৃদয়ের অতীত নিয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, এর আগেও দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
এর মধ্যে ২০১৪ সালে ফরিদপুরের নগরকান্দায় নিজ এলাকায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। দীর্ঘ সময় পর আবারও তার নাম উঠে আসে আশুলিয়ার একটি হত্যা মামলায়।
২০২২ সালে আশুলিয়ায় গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। সেই মামলার পর এবার চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের নবজাতক সন্তান হত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়েছে।
অর্থাৎ পিবিআইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয়ের বিরুদ্ধে ২০১৪, ২০২২ ও ২০২৬ সালের তিনটি পৃথক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি বর্তমান মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আগের দুই মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
এবিষয়ে পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ (পিপিএম-সেবা) বলেন, এসব ঘটনায় সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পিবিআই তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
