জামায়াত যা পারেনি, প্রধানমন্ত্রী তা পেরেছেন: অ্যাটর্নি জেনারেল
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘জামায়াত যা পারেনি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তা পেরেছেন। এখানে বার্তাটা একদম পরিষ্কার।’
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী দল থেকে বহিষ্কার করলেও শুধু বহিষ্কারের কারণে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়নি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে অবস্থান নিয়েছেন, তাতে নিজ দলের একজন সংসদ সদস্যকে পদ হারাতে হয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা আরও বলেন, রাজনৈতিক দল এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ছাড়া একটি দেশে সামগ্রিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন।
তাঁর ভাষ্য, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযোগ ওঠে যে, তাঁরা নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের অপরাধ আড়াল করেন কিংবা তাদের প্রশ্রয় দেন। মিষ্টির পদত্যাগের ঘটনায় সেই ধরনের প্রশ্রয় না দেওয়ার একটি বার্তা পাওয়া গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, একজন ব্যক্তি যত ভালো কাজই করুন না কেন, একটি খারাপ কাজ তাঁর আগের অনেক অর্জনকে ম্লান করে দিতে পারে। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্ভবত চান না, তাঁর সরকারের বা দলের অর্জন কারও কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হোক।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই পরিষ্কার একটি বার্তা।’
মিষ্টির পদত্যাগ শুধু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের জন্য নয়, সাধারণ নাগরিকদের জন্যও একটি বার্তা বহন করে বলে মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত হলে তাঁকে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় রাখার ক্ষেত্রে এ ধরনের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব রয়েছে।
