‘ইরান গ্রানাইট পাথরের মতো শক্ত; পরাজিত করা সম্ভব নয়’
অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক ড্যানিয়েল ডেভিস ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে ওয়াশিংটনের যুদ্ধপন্থী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন: সামরিকভাবে ইরানকে পরাজিত করা সম্ভব নয়।
ইরানের ইরনা সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ড্যানিয়েল ডেভিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ধারাবাহিক এক বার্তায় লিখেছেন, ইরান কয়েক দশক ধরে কোনো বিমানযুদ্ধে জয়ী হওয়ার প্রস্তুতি নেয়নি; বরং এমন যুদ্ধ মোকাবিলার জন্য শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দুর্গ নির্মাণে মনোযোগ দিয়েছে।
তিনি ইরানকে পৃথিবীর অন্যতম কঠিন প্রাকৃতিক শিলা গ্রানাইটের তৈরি একটি পাহাড়ের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, বাস্তবতা হলো—পারমাণবিক অস্ত্র দিয়েও একটি গ্রানাইট পাহাড় ধ্বংস করা যায় না। তাই সামরিকভাবে ইরানকে পরাজিত করাও সম্ভব হবে না।
এই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাত নতুন পর্যায়ে যাওয়ার আগে ট্রাম্পকে যুদ্ধের বাস্তব পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে এবং রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রচারণার ওপর নির্ভর না করে বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক বক্তব্য অনেক সময় বাস্তবতাকে আড়াল বা বিকৃত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি মনে করেন যে ইরানকে যেভাবে ইচ্ছা আক্রমণ করা যাবে এবং এর বিপরীতে ইরান সমানুপাতিক পাল্টা আক্রমণ চালাবে না, তাহলে তিনি বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন কল্পনার জগতে বাস করছেন।
ডেভিসের ভাষায়, ইরান এখন পর্যন্ত দেখিয়েছে যে তাদের দিকে যা-ই ছোড়া হোক না কেন, তারা তার জবাব দিতে সক্ষম। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও প্রমাণ করেছে যে ইরানের পাল্টা হামলা পুরোপুরি ঠেকিয়ে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তাদের নেই।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সৎ ও বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, পরিণতি বিবেচনা না করে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বুদ্ধিমান কৌশল নয়। বরং এই সংঘাতের খরচ আরও বেশি হয়ে ওঠার আগেই এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে বের করা উচিত।
ডেভিস আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা- এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের দৃষ্টিতে কোনো ‘খারাপ’ চুক্তিতে পৌঁছানোর মাধ্যমেও- সামরিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে এই আশায় হামলা চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে ভালো যে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জিত হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি ছিল এই ধারণা করা যে উত্তেজনা বাড়ালে তার কোনো পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রকে ভোগ করতে হবে না।
