সেতুর পাইপ চুরি করতে গিয়ে আটক ১০, ছাড়াতে বিএনপি নেতার ‘তদবির’
পিরোজপুর সদর উপজেলার কঁচা নদীর ওপর নির্মিত বেকুটিয়া অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর পিলারের সুরক্ষায় বসানো লোহার পাইপ কাটার সময় ১০ জনকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সেতুর নিচে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি স্টিলের ট্রলার, গ্যাস সিলিন্ডার ও পাইপ কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা পুলিশের কাছে সুপারিশ করেছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—হুমায়ূন হাওলাদার, মাহাবুব শেখ, আমির হোসেন, বারেক শেখ, মো. সুমন সানা, মো. মিরাজুল ফকির, মো. সাদ্দাত শেখ, মো. সিয়াম হাওলাদার, আব্দুল জব্বার ভুট্ট ও মিরাজ শেখ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেতুর পিলারের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নদীর তলদেশে ভারী লোহার পাইপ স্থাপন করা হয়েছিল। রোববার গভীর রাতে একটি চক্র সেতুর পিলারের পাশ থেকে গ্যাস কাটার দিয়ে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ একটি পাইপ কেটে ট্রলারে তোলার চেষ্টা করছিল। পাইপটির আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পিরোজপুর সদর থানা-পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে পাইপ কাটার সরঞ্জাম ও ট্রলারসহ ১০ জনকে আটক করে।
এদিকে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে শারিকতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেমায়েত বেপারী থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে তদবির করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গ্রেপ্তারের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
তবে হেমায়েত বেপারী গ্রেপ্তারের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন তার এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় তাদের বিষয়ে খোঁজ নিতে তিনি থানায় গিয়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পাইপ চুরির ঘটনায় হেমায়েত বেপারীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বেকুটিয়া সেতুর নিচে পাইপ কাটার সময় ১০ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। এ সময় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ একটি ট্রলার জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, হেমায়েত বেপারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দলীয়ভাবে তদন্ত করা হবে। কোনো ধরনের অনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
