চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত, শিক্ষার মানোন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি
চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষক সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা আলিয়া মাদ্রাসার হলরুমে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন। প্রধান বক্তা ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের জেলা শাখার সভাপতি আজিজুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য রুহুল আমিন বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সংসদে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানানো হলেও বিরোধী দল হওয়ায় তাতে কোনো লাভ হয়নি। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে তাঁরা সবার পাশে থাকতে চান। শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ধর্ম ও রাজনীতি আলাদা—এমন ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা সফল হয়েছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সার্টিফিকেট বিক্রির প্রবণতা রয়েছে। ফলে শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। তাদের এগিয়ে নিতে ইংরেজি শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
রুহুল আমিন আরও বলেন, দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ ও ইসলামমুখী। এ কারণে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে সফলতা পাবে বলে তাঁরা আশাবাদী। আগামী নির্বাচনে ১৫১টি সংসদীয় আসনে জয়লাভের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, সম্প্রতি তাঁরা কয়েকটি দেশ সফর করেছেন। এর মধ্যে ছোট দেশ সিঙ্গাপুরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান তাঁকে মুগ্ধ করেছে। দেশটিতে আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি র্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম এবং আরেকটি দ্বাদশ স্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের তুলনায় বাংলাদেশ একটি বৃহৎ দেশ। দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৫৮টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। অথচ দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম এক হাজারের মধ্যে নেই। এ পরিস্থিতি দেশের উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আদর্শ শিক্ষক পরিষদের জীবননগর উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ বেলাল হুসাইন, চুয়াডাঙ্গা পৌর শাখার সভাপতি মতিউর রহমান, দামুড়হুদা থানা শাখার শিক্ষক পরিষদের শাহজাহান আলী, প্রাথমিক পরিষদের জেলা সভাপতি মাসুদ রানা, গাংনী-আসমানখালী শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মাওলানা আজহারুল ইসলাম এবং মাদ্রাসা পরিষদের সভাপতি মাওলানা জহুরুল ইসলাম মামুন।
সমাবেশে চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
