মূল লেখায় যান
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

বৈদেশিক ঋণ ৭৮.২২ বিলিয়ন ডলার, বাড়বে পরিশোধে চাপ: অর্থমন্ত্রী

প্রতিবেদক:
বৈদেশিক ঋণ ৭৮.২২ বিলিয়ন ডলার, বাড়বে পরিশোধে চাপ: অর্থমন্ত্রী

দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৭৮ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বিপুল এ ঋণের কারণে আগামী বছরগুলোতে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে।

বুধবার (২৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ২২৩ দশমিক ৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কনসেশনাল বা সহজ শর্তের ঋণ এবং ৩৮ দশমিক ০৩ শতাংশ নন-কনসেশনাল বা তুলনামূলক কঠিন শর্তের ঋণ। কনসেশনাল ঋণে সুদের হার কম এবং পরিশোধের সময়সীমা দীর্ঘ হলেও নন-কনসেশনাল ঋণে সুদের হার বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়তে পারে।

বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সহজ শর্তের ঋণ পাওয়ার সুযোগ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। একই সময়ে সরকারের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে আগামী বছরগুলোতে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হবে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বেশ কয়েকটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি। নতুন বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ঋণ প্রস্তাব ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, যাতে উচ্চ সুদের ঋণ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন না করা হয়।

তিনি আরও বলেন, যেসব প্রকল্পে উচ্চ অর্থনৈতিক সুফল বা ইকোনমিক রিটার্ন রয়েছে, সেসব প্রকল্পের জন্যই বৈদেশিক ঋণ বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি রোধে নিবিড় তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল (মিডিয়াম টার্ম ডেট ম্যানেজমেন্ট স্ট্র্যাটেজি) হালনাগাদের কাজ চলছে। এছাড়া ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও টেকসই ও সহনশীল করতে ডেট সাসটেইনেবিলিটি অ্যানালাইসিস (ডিএসএ) পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে শিগগিরই প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কার পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজও শুরু করা হবে।