ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখ হারালেন আইনজীবী
ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেরার পথে চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন আয়কর আইনজীবী শ্যামল চন্দ্র দাস। দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পরও তার ডান চোখটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের চোখটি অপসারণ করতে হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মো. শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহর স্টেশন অতিক্রম করার সময় ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় একটি পাথর ট্রেনের জানালা ভেদ করে ভেতরে থাকা শ্যামল চন্দ্র দাসের ডান চোখে আঘাত হানে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আজ বুধবার (২৪ জুন) সকাল থেকে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকরা তার ক্ষতিগ্রস্ত চোখটি রক্ষা করতে পারেননি। পরবর্তীতে চোখটি অপসারণ করতে হয়।
এ ঘটনায় রেলযাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলেও তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে যাত্রীদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বারবার হুমকির মুখে পড়ছে।
রেলযাত্রী ও সচেতন মহল এই ধরনের প্রাণঘাতী কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত টহল জোরদার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে পারলেই এ ধরনের ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলম বলেন, আজ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে তথ্য পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
