মূল লেখায় যান
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দারাজে মিলছে মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও অবৈধ যৌন উত্তেজক পণ্য এইমাত্রঅন্যান্য দারাজে মিলছে মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও অবৈধ যৌন উত্তেজক পণ্য পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে নিজের দলের নেতাকর্মীদের বিচারে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ এমপি বাবুল এইমাত্রঅন্যান্য পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে নিজের দলের নেতাকর্মীদের বিচারে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ এমপি বাবুল ৫ ধরনের ভাতা দিচ্ছে সরকার, বাড়লো আবেদনের সময় এইমাত্রঅন্যান্য ৫ ধরনের ভাতা দিচ্ছে সরকার, বাড়লো আবেদনের সময় বজ্রসহ ভারী বর্ষণের আশঙ্কা, আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা এইমাত্রঅন্যান্য বজ্রসহ ভারী বর্ষণের আশঙ্কা, আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা সবাই এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী এইমাত্রঅন্যান্য সবাই এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী বলিউড সিনেমা বানিয়ে যুদ্ধের পরাজয় মুছে ফেলা যায় না: পাকিস্তান সেনাবাহিনী এইমাত্রঅন্যান্য বলিউড সিনেমা বানিয়ে যুদ্ধের পরাজয় মুছে ফেলা যায় না: পাকিস্তান সেনাবাহিনী কুমিল্লায় ট্রেনে কাটক পড়ে দাদি নাতনি নিহত এইমাত্রঅন্যান্য কুমিল্লায় ট্রেনে কাটক পড়ে দাদি নাতনি নিহত এবার আরব আমিরাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এইমাত্রঅন্যান্য এবার আরব আমিরাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
অন্যান্য

৭ মাত্রার ভূমিকম্পে যে অবস্থা হতে পারে ঢাকার

প্রতিবেদক:
৭ মাত্রার ভূমিকম্পে যে অবস্থা হতে পারে ঢাকার

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বুধবার দেশটিতে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫। এতে বহু ভবন ধসে পড়ে, শত শত মানুষ আহত হন এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৩২ জন নিহত ও ৭০০ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ভেনিজুয়েলার এই ভয়াবহ দুর্যোগের পর বাংলাদেশেও বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভূতত্ত্ববিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন সক্রিয় ভূ-ফাটলে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি সঞ্চিত হওয়ায় ভবিষ্যতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এমন একটি ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলে, যেখানে ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ডাউকি ফল্টসহ কয়েকটি সক্রিয় ভূ-চ্যুতিতে জমে থাকা শক্তি বড় ধরনের কম্পনের কারণ হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অবজারভেটরির সাবেক পরিচালক ও ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত পাহাড়ি অঞ্চলের নিচে বিপুল পরিমাণ ভূ-শক্তি সঞ্চিত রয়েছে। তার মতে, ওই এলাকায় ৮ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ভূমিকম্পে ঢাকার মাত্র ১ শতাংশ ভবন ধসে পড়লেও প্রায় ৬ হাজার ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় ৩ লাখ মানুষ সরাসরি হতাহত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

এর আগে ২০০৯ সালে জাইকা ও সিডিএমপির যৌথ জরিপেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে আসে। ওই জরিপে বলা হয়েছিল, রাজধানীতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। পাশাপাশি এক লাখেরও বেশি ভবন বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অমান্য করা, দুর্বল নির্মাণব্যবস্থা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, রাজধানীর মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভবন ভূমিকম্প সহনশীল। তাই ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সেগুলোকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করা প্রয়োজন।

তার মতে, ভবনগুলোকে ভূমিকম্প সহনশীল করে গড়ে তুলতে পারলে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

ভেনিজুয়েলার সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়া এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থা চাপে পড়ার ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পের আগে প্রস্তুতি নেওয়ার বিকল্প নেই। কারণ ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশেই নির্ভর করে একটি দেশের অবকাঠামোগত সক্ষমতা ও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতির ওপর।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নিয়মিত মহড়া, উদ্ধার কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি সমান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে স্মার্ট সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু করা এবং স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ভূমিকম্পবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

তাদের মতে, ভূমিকম্প ঠেকানো সম্ভব না হলেও যথাযথ প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যেতে পারে।