কমিউনিটি পুলিশিং সভার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চার বাড়িতে ডাকাতি
রাতেই হয়েছিল নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের আশ্বাসের সভা। আর ভোর হতেই সেই আশ্বাস যেন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। কক্সবাজারের রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চারটি বাড়িতে একযোগে হানা দেয় ১০ থেকে ১২ জনের সংঘবদ্ধ ডাকাত দল।
অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কয়েকটি পরিবার থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল লুটে নেয় তারা। এতে আহত হয়েছেন কয়েকজন। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে আতঙ্ক।
আকস্মিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রবিবার ভোর প্রায় ৫টার দিকে রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ঘোনারপাড়া সংলগ্ন মাকপাড়া এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পরিকল্পিতভাবে শামসুল আলম, বজল আহমদসহ অন্তত চারটি বসতবাড়িতে একের পর এক হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে তারা অল্প সময়ের মধ্যেই নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার এবং অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়।
সমাজ কমিটির সভাপতি আলি আক্কাছ বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে কখনো এভাবে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। ভোররাতের এ ঘটনায় পুরো এলাকাবাসী আতঙ্কিত। দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার, নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চুরি এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে চলেছে। কিন্তু কার্যকর অভিযান ও নজরদারির অভাবে অপরাধীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, ডাকাতির ঘটনার আগের সন্ধ্যায় দক্ষিণ মিঠাছড়ির পানেরছড়া এলাকায় রামু থানা পুলিশের উদ্যোগে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিষয়ে নানা আশ্বাস দেওয়া হয়।
কিন্তু সেই সভার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তাদের মতে, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যকারিতা আসলে কতটুকু?
৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাফর আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছি। প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি।’
রামু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিমল কান্তি বলেন, ‘ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংঘটিত এই ডাকাতির ঘটনাকে পুলিশের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কি না, জানতে রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
