মূল লেখায় যান
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার এইমাত্রঅন্যান্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার পরিকল্পিত ঢাকার স্বপ্ন থমকে, ড্যাপ বাস্তবায়নে রাজউককে আইনি নোটিশ এইমাত্রঅন্যান্য পরিকল্পিত ঢাকার স্বপ্ন থমকে, ড্যাপ বাস্তবায়নে রাজউককে আইনি নোটিশ ১৭ বছর পর রাজধানীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত এইমাত্রঅন্যান্য ১৭ বছর পর রাজধানীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ২৯ মামলার আসামি ফরহাদ মন্ডল গ্রেপ্তার এইমাত্রঅন্যান্য ২৯ মামলার আসামি ফরহাদ মন্ডল গ্রেপ্তার সালথায় খাল খনন শেষে সরকারি কোষাগারে ৭৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও  এইমাত্রঅন্যান্য সালথায় খাল খনন শেষে সরকারি কোষাগারে ৭৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও  তদন্তে গিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, থানার এসআই ক্লোজড এইমাত্রঅন্যান্য তদন্তে গিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, থানার এসআই ক্লোজড বাঘারপাড়ায় ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি তামিম আটক এইমাত্রঅন্যান্য বাঘারপাড়ায় ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি তামিম আটক ডোপ টেস্টে মাদকসেবী শনাক্ত, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কার এইমাত্রঅন্যান্য ডোপ টেস্টে মাদকসেবী শনাক্ত, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কার
অন্যান্য

আজকের দিনেই ৭ গোল খেয়েছিল ব্রাজিল

প্রতিবেদক:
আজকের দিনেই ৭ গোল খেয়েছিল ব্রাজিল

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ রাতগুলোর একটি দেখেছিল ব্রাজিল ২০১৪ সালের ৮ জুলাই। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সেদিন জার্মানির কাছে বিধ্বস্ত হয়েছিল ৭-১ গোলের ব্যবধানে। একদিকে ছিল বিশ্বকাপ ফাইনালের হাতছানি, অন্যদিকে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার নির্মম বাস্তবতা।

বেলো হরিজন্তের মিনেইরো স্টেডিয়ামের সেই রাত আজও ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে এক দুঃস্বপ্নের নাম। ৬২ হাজার দর্শক আর বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী অপেক্ষায় ছিলেন স্বাগতিক ব্রাজিলের ‘জোগো বোনিতো’র ছন্দ দেখার জন্য। কিন্তু মাঠে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। নেইমার ও থিয়াগো সিলভাকে ছাড়া মাঠে নামা ব্রাজিলকে সেদিন যেন চেনাই যাচ্ছিল না।

১৯৫০ সালের মারাকানা ট্র্যাজেডির ক্ষত ভুলে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল ব্রাজিল। কিন্তু সেই স্বপ্নের ম্যাচেই জার্মানি উল্টো সেলেসাওদের সব প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেয়। শক্তিশালী একাদশ নিয়েও ব্রাজিল পরিণত হয়েছিল অসহায় এক দলে, আর জার্মানি খেলেছিল নিখুঁত পরিকল্পনার ফুটবল।

৮ জুলাই ২০১৪—ব্রাজিল বনাম জার্মানি। ম্যাচের ফলাফল ৭-১। আক্রমণে ব্রাজিলের চেষ্টা কম ছিল না, কিন্তু মাঠে তাদের খেলা ছিল এলোমেলো ও দিশেহারা। আর সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছিল জার্মানি।

ম্যাচের ১১ মিনিটে থমাস মুলারের গোল দিয়ে শুরু হয় জার্মানির গোল উৎসব। এরপর আসে সেই ভয়ংকর সাত মিনিট, যা ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে কষ্টের স্মৃতিগুলোর একটি হয়ে আছে।

২৩ মিনিটে গোল করেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসা। এর মাত্র এক মিনিট পর টনি ক্রুস ব্যবধান বাড়ান। ২৬ মিনিটে আবারও গোল করেন ক্রুস। মুহূর্তের মধ্যেই ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ে। ডেভিড লুইজ, মার্সেলো ও অস্কাররা যেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না কীভাবে এই ধস সামলাবেন।

২৯ মিনিটে সামি খেদিরার গোলের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন মনে হচ্ছিল, ব্রাজিলের জালে বল পাঠানোই যেন জার্মানির জন্য সবচেয়ে সহজ কাজ। ডাগআউটে দাঁড়িয়ে অসহায় চোখে সবকিছু দেখছিলেন ব্রাজিলের কোচ লুইজ ফেলিপে স্কলারি।

প্রথমার্ধেই ৫-০ গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। এরপরও তাদের আক্রমণের ধার কমেনি। দ্বিতীয়ার্ধে আন্দ্রে শুর্লে মাঠে নেমে আরও দুইবার ব্রাজিলের জালে বল পাঠান। ৬৯ ও ৭৯ মিনিটে তার জোড়া গোলে জার্মানির সাত গোল পূর্ণ হয়।

ম্যাচের শেষ দিকে অস্কার ব্রাজিলের হয়ে একটি গোল করেন। কিন্তু সেই গোলের কোনো গুরুত্ব তৈরি হয়নি। বরং সেটি হয়ে থাকে ইতিহাসের অন্যতম অর্থহীন সান্ত্বনার গোল। ম্যাচ শেষে ডেভিড লুইজের চোখের জল আর অসহায় মুখ হয়ে উঠেছিল ব্রাজিলের সেই রাতের প্রতীক।

সেদিনের পর কেটে গেছে ১১ বছর। কিন্তু ২০১৪ সালের ৮ জুলাইয়ের সেই হার এখনও ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় লজ্জার অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে আছে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ঘরের মাঠে এমন পতন ফুটবল ইতিহাসে খুব কমই দেখা গেছে।

এই পরাজয়ের পর থেকেই মজার ছলে ব্রাজিলের সঙ্গে ‘সেভেন আপ’ শব্দটি জুড়ে দিয়েছেন অনেক ফুটবল সমর্থক। সময়ের সঙ্গে অনেক ম্যাচ এসেছে, অনেক জয়-পরাজয় এসেছে, কিন্তু জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের সেই হার সবুজ-হলুদ জার্সির সমর্থকদের মনে চিরকাল এক বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে।